কী ঘটেছে সারিয়াকান্দির চরাঞ্চল থেকে অপহৃত চার রাখালের ভাগ্যে? উদ্ধার হয়নি ৫ দিনেও
স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনার চরাঞ্চলের মহিষের বাথান থেকে অপহৃত চার রাখালকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে চাঞ্চল্যকর এই অপহরনের ঘটনা ঘটে।
স্বজনরা বলেছেন, অপহৃত চার রাখালকে ছাড়তে অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। কিন্তু এই টাকা দেয়ার মত তাদের সামর্থ নেই। তাই তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তারা তা জানেন না। অপহরণের শিকার রাখালরা হলেন-নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনসার মন্ডলের ছেলে ইউনুস মন্ডল (৫০), মৃত মোহাম্মদ মন্ডলের ছেলে মফের মন্ডল (৪০), লালপুর ইউনিয়নের চকবাদিকুল পাড়া গ্রামের কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে মাসুদ মন্ডল (৩২) এবং বিলবাড়িয়া মহড়কয়া গ্রামের মাজেদ মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৪০)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া গ্রামের মাহরকয়া গ্রামের ইউনুছ আলী সারিয়াকান্দি বোহাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলে মহিষ পালন হয় জীবীকা নির্বাহ করছিলেন। তার বাথানে বর্তমানে ১৬০টির বেশি মহিষ আছে। মহিষ দেখাশোনার কাজে তিনি ৮ রাখাল নিয়োগ করেন। গত বৃহস্পতিবার রাখালরা প্রতিদিনের মতো মহিষের দেখাশোনা শেষে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন।
কিন্ত ওইদিন রাত দেড়টার দিকে বাথানে একটি নৌকাযোগে ১০ থেকে ১২ জন দৃর্বৃত্ত অস্ত্রসজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। তারা রাখালদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। পরে বাথানের অপর রাখালরা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় দৃর্বৃত্তরা দ্রুত ওই চার রাখালকে নৌকায় তুলে নিয়ে যায়। আজ সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত রাখালদের কোনও খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনমামলার বাদি অপহৃত ইউনূস মন্ডলের ছেলে সোহেল রানা বলেন, এখন পর্যন্ত অপহরণের শিকার রাখালদের কোনও সন্ধান আমরা পাইনি। জানি না তারা এখন কী অবস্থায় আছে। রাতের আঁধারে মহিষের বাথান থেকে রাখালদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্বৃত্তরা রাখালদের মুক্তিপন হিসাবে ২০ লাখ টাকা চেয়েছে। কিন্তু এই টাকা তারা দিতে পারবে না। তাই রাখালদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা রয়েছে অজানা।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশ তদন্ত করছে।
সিরাজগঞ্জ সদর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বলেন,অপহরণের শিকার রাখালদের উদ্ধার করতে নৌ পুলিশের তৎপরতা চলমান রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও অপহৃত রাখালদের উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে চার রাখালকে অপহরণ করা হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না।
মন্তব্য করুন







