২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩৫ কোটির বেশি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারে : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত
স্টাফ রিপোর্টার: ফ্যাটি লিভার রোগ এখন এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ মহামারীতে রূপ নিয়েছে। এই রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ না পাওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং আক্রান্তদের বড় অংশই চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৩৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। বগুড়ায় ‘গ্লোবাল ফ্যাটি লিভার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই তথ্য জানান।
আজ সোমবার (১৫ জুন) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) লিভার বিভাগের উদ্যোগে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে লিভারের এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষ, রোগী ও চিকিৎসকদের সহজ গাইডলাইন হিসেবে বাংলা ভাষায় রচিত “ফ্যাটি লিভার” নামক একটি বিশেষ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান আলোচক ও লিভার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ এ এস এম সাদেকুল ইসলামসহ বিশেষজ্ঞরা জানান, ফ্যাটি লিভারের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু লিভারের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের ৭০ শতাংশের বেশি স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন। এছাড়া ৭৫ শতাংশ রোগীর টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ২০ থেকে ৮০ শতাংশ রোগীর রক্তে উচ্চ মাত্রার চর্বি বা হাইপারলিপিডিমিয়া থাকে।
ফলে ফ্যাটি লিভারের রোগীরা মারাত্মক হৃদরোগের (কার্ডিওমেটাবলিক) ঝুঁকিতে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় এর সঠিক চিকিৎসা করা না হলে রোগটি লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার এবং শেষ পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপনের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী পর্যায়ে চলে যায়।
আরও পড়ুনমূলত ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে বিশ্বব্যাপী শুরু হওয়া এই সচেতনতা অভিযানের মূল লক্ষ্যই হলো প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই মহামারীর গতিপথ বদলে দেওয়া। শজিমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ওয়াদুদুল হক তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমএ বগুড়া শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আজফারুল হাবিব রোজ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম নুরুল ইরফান, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ কামাল হোসেন এবং বিএমএ-র সদস্য-সচিব ডাঃ মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ। ডাঃ সুরাইয়া ইসলাম ও ডাঃ জিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন







