বগুড়ার সোনাতলায় বোরো মৌসুমে ধান ভাঙার হিড়িক
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: সোনাতলা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতেই স্থানীয় অটো ও হাসকিং রাইস মিলগুলোতে শুরু হয়েছে ধান ভাঙানোর ব্যাপক হিড়িক। নতুন ধান ঘরে তোলার পর এখন তা চাল ও চিড়ায় রূপান্তর করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষক, গৃহিণী এবং ব্যবসায়ীরা।
সোনাতলা পৌর এলাকা ছাড়াও উপজেলার বালুয়া, মধুপুর, তেকানী চুকাইনগর, দিগদাইড় এবং জোড়গাছা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি রাইস মিলেই এখন ধান ভাঙানোর উপচে পড়া ভিড়। কোথাও ট্রাক ও ভ্যান থেকে নামানো হচ্ছে নতুন ধানের বস্তা, কোথাও আবার চাতালের বিশাল উঠানে ধান রোদে শুকাচ্ছেন নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা।
উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ পুটু বলেন, বোরো মৌসুমের এই সময়টাতে আমাদের দম ফেলার ফুরসত থাকে না। স্থানীয় বাজারে চালের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি সাধারণ কৃষকরাও সারা বছরের খাওয়ার চাল ঘরে তুলতে এখন ধান ভাঙাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ভোর থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত মিল সচল রাখতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনচলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটায় সোনাতলায় বোরোর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে ধানের দামও সন্তোষজনক। স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীদের মতে, বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে সোনাতলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের চাঙ্গা ভাব এসেছে। রাইস মিলগুলো পুরোদমে চালু হওয়ায় একদিকে যেমন চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকছে, অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর ও মিল শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সচল রয়েছে।
তবে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং বাজারে চালের ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে তারা গত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে ভালো মুনাফা করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন








