নোয়াখালীতে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক সেবন ও কারবারের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হারুনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন বেলাল মাস্টার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি সেতুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদক সেবন ও কারবার চলছিল। কয়েকদিন আগে স্থানীয় তরুণরা এক মাদকসেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হারুনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তারা ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অবস্থান নেয় এবং পাহারা বসায়। এতে মাদকের আড্ডা বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনএর জেরে বুধবার রাতে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত ও সাকিবসহ কয়েকজন তরুণ এলাকায় অবস্থানকালে হারুনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেয়া হয় এবং সাকিব গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম ওইদিন সন্ধ্যায় তার নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নোয়াখালী পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক






