ভিডিও বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১১ জুন, ২০২৬ ০৩:২৩ পিএম

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে নিজস্ব উদ্যোগে নতুন রাস্তা নির্মাণ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে নিজস্ব উদ্যোগে নতুন রাস্তা নির্মাণ, ছবি: দৈনিক করতোয়া।

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : চিরিরবন্দরে পাশাপাশি দুটি গ্রামের জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে নতুন একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফলে আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের পূর্ব বড়গ্রাম বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড় গ্রামের মধ্যবর্তী এই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় দুই গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। 

সরজমিনে দেখা গেছে, পূর্ব বড়গ্রামের বোর্ডপাড়ার বাসিন্দাদের কবরস্থানসহ ঈদগাহের পশ্চিম বড় গ্রামের বড় পুকুর পাড়ে কোন রাস্তা বা আইল না থাকায় তারা ঈদের নামাজ আদায় করতে ও কেউ মারা গেলে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াসহ খুব কষ্টে চলাফেরা করতেন। ৫শ’ মিটার রাস্তার জন্য তাদের ৪ কিলোমিটার ঘুরে চলতে হতো। বিভিন্ন প্রয়োজনে নিত্যদিনের যাতায়াতের চরম ভোগান্তি দূর করতে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন পশ্চিম বড়গ্রাম এলাকার দুই যুবক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ফারুক। এরপর পূর্ব বড়গ্রামের লোকজনসহ এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে বোরো ধান উঠানোর পরপরই এ রাস্তা নির্মাণ শুরু হয়। 

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান, সাগর ইসলাম, শাহিদ ইসলাম, মনসুর আলী জানান, পূর্ব গ্রামের বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড় গ্রাম দুটি অত্যন্ত জনবহুল গ্রাম পাশাপাশি অবস্থিত হলেও মাঝখানে কোনো সংযোগ সড়ক ছিল না। দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি মাত্র আধা কিলোমিটারের একটি রাস্তা না থাকায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুই তীরের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। ঈদের নামাজ আদায় করতে ও কেউ মারা গেলে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াসহ দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজনে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াতের জন্য এলাকার মানুষদের দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হতো। সরাসরি যোগাযোগের অভাবের কারণে বর্ষাকালে এই সমস্যা আরও কয়েক গুণ প্রকট আকার ধারণ করত। মরদেহ নিয়ে ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে কবরস্থানে যেতে হতো। 

দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত জনদুর্ভোগ ঘোচাতে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ফারুকের উদ্যোগে জমি সংগ্রহ থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে এগিয়ে আসেন পূর্ব বড়গ্রামের বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড় গ্রামের আপামর জনসাধারণ। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবং এই দুই তরুণের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এক্সকাভেটর এবং শ্রমিক লাগিয়ে মাটি কেটে মোটামুটি একটি সরু রাস্তা নির্মাণ করা হয়। 
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় নাসির উদ্দিন, আজাদ রহমান, আজগার আলীসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি এই দুটি গ্রামের মানুষকে সামান্য কাজের জন্য ৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে চলাচল করতে। রাস্তাটি চালু হলে খুব উপকার হবে দুই গ্রামের মানুষের। রাস্তার পাশের জমি থেকে উত্তোলিত ধান সহজে পরিবহন করা যাবে। বর্তমানে কাঁচা রাস্তা হিসেবে এটি নির্মাণ করা হলেও, ভবিষ্যতে যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এটিকে প্রশাসনের মাধ্যমে পাঁকা বা হেরিংবোন বন্ডকরণের মাধ্যমে একটি স্থায়ী টেকসই সড়কে রূপান্তর করা হয়। 

আরও পড়ুন

ফারুক ও নয়ন নামের ভূমি মালিকরা বলেন, নবনির্মিত রাস্তার জমিগুলো আমাদের বংশের। আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে নাসির উদ্দিন নামে এক ভূমি মালিক বলেন, তিনি চলাচলের জন্য ৩ ফুট পর্যন্ত জমি ছাড়বেন। অপর পাশের জমির মালিক ৩ ফুট ছাড়বেন। ৩ ফুটের বেশি হওয়ায় তিনি অতিরিক্তটি কেটে দিয়েছেন। 

স্থানীয় আউলিয়াপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, রাস্তাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দুই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে নিজস্ব উদ্যোগে নতুন রাস্তা নির্মাণ

ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নিহত

বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে বিপদে মেসিসহ আর্জেন্টিনা দল

ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না : পেজেশকিয়ান

গাইবান্ধার সাঘাটায় সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না ৭ কোটি টাকার সেতু

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে বগুড়া মহানগর বিএনপি’র শ্রদ্ধা