শহীদ জিয়াঃ স্বাধীনতার ঘোষক থেকে সফল রাষ্ট্রনায়ক বা অন্য কিছু.........
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক অনন্য নাম, যাঁর জীবন, সংগ্রাম, সততা, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব আজও কোটি মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, রাষ্ট্রগঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জাতীয় আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ৩০ মে তাঁর শাহাদাতবার্ষিকী শুধু শোকের দিন নয়; এটি জাতির আত্মবিশ্লেষণের দিন, স্বাধীনতা ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণের দিন।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন শান্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল। পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভের মাধ্যমে তিনি সামরিক জীবনে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একজন দক্ষ, বিচক্ষণ ও সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে।
লেখক হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ-এর ‘একজন জিয়া’, অধ্যাপক নিসার উদ্দিন রচিত ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া বাংলাদেশের কামাল আতাতুর্ক’, আবুল কাসেম হায়দার সম্পাদিত ‘একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ: শহীদ জিয়া’, বজলুল করিম সম্পাদিত ‘দেশপ্রেমিক জিয়া’, বিভিন্ন সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্মৃতিচারণ এবং পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও নেতৃত্বের অসংখ্য অনন্য দৃষ্টান্ত সংরক্ষিত রয়েছে। নিম্নে তেমনই কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলোঃ
২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালালে সমগ্র জাতি দিশেহারা হয়ে পড়ে। সেই কঠিন সংকটময় মুহূর্তে চট্টগ্রামের ষোলশহর ক্যান্টনমেন্টে মেজর জিয়াউর রহমান কয়েক শ’ বাঙালি সৈনিকদের একত্রিত করে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন “উই রিভোল্ট।” এই ঘোষণা ছিল পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের এক দৃপ্ত আহ্বান। তিনি ঘোষণা করেন, আজ থেকে তাঁরা পাকিস্তানের নয়, বাংলাদেশের আনুগত্য স্বীকার করছেন এবং স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত।
বিদ্রোহের পর সহযোদ্ধাদের নিয়ে মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাটের দিকে অগ্রসর হন। পথে কেউ তাঁকে বলেছিলেন, “স্যার, পাশেই আপনার বাসা। ম্যাডামের সাথে একটু সাক্ষাৎ করে গেলে ভালো হয়।” জিয়ার উত্তর ছিল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা এক অবিস্মরণীয় উচ্চারণ “তোমরা কি তোমাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে? আমরা এখন দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে নেমেছি। দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই। সামনে এগিয়ে যাও।” এই একটি বাক্যেই ফুটে ওঠে তাঁর দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের গভীরতা।
১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করেন। তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠে উচ্চারিত স্বাধীনতার আহ্বান সেদিন দিকনির্দেশনাহীন জাতির মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। মুক্তিকামী মানুষ সাহস ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল। তাঁর সেই ঘোষণা শুধু একটি বার্তা ছিল না; এটি ছিল জাতিকে সংগঠিত ও অনুপ্রাণিত করার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব ছিল কিংবদন্তিতুল্য। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে একই কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার বিরল মানসিকতা তাঁকে সৈনিকদের হৃদয়ের নেতা করে তুলেছিল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে টানা দুই দিন না খেয়ে থাকার পর তিনি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে পরিত্যক্ত চা-পাতার গরম পানি পান করেছিলেন। এমনকি ক্ষেতের কাঁচা বেগুন খেয়েও যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। একজন সর্বাধিনায়কের এই সাধারণ জীবনযাপন ও কষ্টসহিষ্ণুতা সৈনিকদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, দুর্ভিক্ষ ও প্রশাসনিক সংকটে নিমজ্জিত ছিল। সেই কঠিন সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে শুধু স্বাধীনতা অর্জনই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন একটি আত্মনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর অন্যতম বড় অবদান ছিল উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলা। তিনি কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। খাল কাটা কর্মসূচি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্বনির্ভর কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের প্রাণ নিহিত রয়েছে গ্রামের মানুষের মধ্যে। তাই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি গ্রামকে স্থান দেন।
তাঁর নেতৃত্বে দেশে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটে। তৈরি পোশাক শিল্পে (জগএ) তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনিই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেন। তাঁর উদ্যোগে ‘জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হয়। তাঁর দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলেই আজ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি দেশের তরুণসমাজকে আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর সময়ে জাতির মধ্যে নতুন আশাবাদ ও কর্মস্পৃহা সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। স্বাধীনতার পর দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে গণতন্ত্র কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠন ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করে তিনি গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরতার নতুন দর্শন প্রতিষ্ঠা করে।
জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর ধারণা। তিনি এমন এক জাতীয় পরিচয়ের কথা বলেন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, ভূখন্ড, ইতিহাস ও জনগণের আত্মমর্যাদাবোধের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর এই দর্শন দেশের মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পররাষ্ট্রনীতিতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী। “সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়” এই নীতিকে সামনে রেখে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ এশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার ধারণা ও উদ্যোগের পেছনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ তাঁর নেতৃত্বে একটি সম্ভাবনাময় ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত সৎ, সংযমী ও সাধারণ জীবনযাপনের মানুষ। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি বিলাসিতা পছন্দ করতেন না। ছেঁড়া ও বারবার তালি দেওয়া পাজামা-শার্ট ঘরের ভেতরে ব্যবহার করতেন। সন্তানদেরও দামী পোশাক বা বিলাসী জীবনযাপন করতে দিতেন না। বঙ্গভবনের খাবার টেবিলেও থাকত সাধারণ সবজি, আলু-গোশত ও রুটি। তিনি বলতেন, “সরকারি অর্থ মানেই জনগণের অর্থ।” তাই জনগণের অর্থে বিলাসিতা তিনি কখনো মেনে নেননি।
জিয়াউর রহমান শুধু নিজে সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন না; তাঁর পরিবারকেও তিনি সংযমী ও সাধারণ জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তুলেছিলেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) এক স্মৃতিচারণে বলেছিলেন, “আমার আব্বু সাদাসিধে জীবন কাটাতে ভালোবাসতেন। আমরাও কোনোদিন কোনো দামী কাপড় ও জুতা ব্যবহার করিনি। খুব সাধারণ পোশাক পরতাম। আব্বুর ব্যবহার করা প্যান্ট বা শার্ট আব্বুর গায়ে ছোট বা বড় হলে সেগুলো কেটে দর্জি আমাদের গায়ের মাপে সার্ট-প্যান্ট তৈরি করে দিত। পোশাক-আশাক ছাড়াও আমাদের বাড়ী (প্রেসিডেন্টের বাড়ি) খাবার দাবার ছিলো সাধারণ। অনেক বন্ধুর বাড়িতে দেখেছি তারা কত রকম খাবার খায় কিন্তু আমরা সেই রকম খাবার খেতাম না। কারণ খাবারের বেশি বিলাসিতা আব্বু পছন্দ করতেন না। এছাড়া কেউ আমাদের কোনো জিনিস দিলে আব্বু তা পছন্দ করতেন না। তিনি নিজেও কারও কাছ থেকে কোনো উপহার নিতেন না। সে জন্য আমাদের আত্মীয়-স্বজন আমাদেরকে কোনো কিছু উপহার দিতে সাহস করতেন না।”
আরও পড়ুনশহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের জীবন হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনের কাছাকাছি। এই শিক্ষা তিনি নিজের পরিবারেও বাস্তবভাবে প্রয়োগ করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নির্ধারিত বেতন ছিল ২,৫০০ টাকা, কিন্তু তিনি প্রতি মাসে ২৫০ টাকা জনকল্যাণে ছেড়ে দিয়ে ২,২৫০ টাকা গ্রহণ করতেন। বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া উপহারও ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার না করে বঙ্গভবনের তোষাখানায় জমা দিতেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেখা যায়, পরিবারের জন্য তিনি প্রায় কিছুই রেখে যাননি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। সততা ও স্বচ্ছতার এই বিরল দৃষ্টান্ত তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি ছিলেন গভীর ধর্মপ্রাণ ও আল্লাহভীরু মানুষ। সৌদি আরব সফরে পবিত্র খানায়ে কাবার ভেতরে প্রবেশের বিরল সুযোগ লাভ করে তিনি নিজ হাতে কাবাঘর পরিষ্কার করেছিলেন। সেই ঝাড়ন বুকে জড়িয়ে তাঁর আবেগাপ্লুত হওয়ার ঘটনা তাঁর ধর্মীয় অনুভূতির গভীরতার পরিচয় বহন করে। তাঁর বিশ্বাস ছিল আল্লাহর রহমত ও মানুষের কল্যাণের মধ্য দিয়েই প্রকৃত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
দেশের পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের প্রতিও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সৌদি আরবে নিজ হাতে নিমগাছের চারা রোপণ করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে “জিয়া-ট্রি” নামে পরিচিতি লাভ করে। মরুভূমির বুকে সেই বৃক্ষের বেড়ে ওঠা তাঁর দূরদর্শিতা ও প্রকৃতিপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছে। বাংলাদেশেও তিনি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে দেশী-বিদেশী এক নির্মম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই মহান রাষ্ট্রনায়ক শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজা প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না; তিনি ছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়ের নেতা।
আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে সততা, দেশপ্রেম, আত্মনির্ভরতা ও গণমুখী নেতৃত্বের প্রশ্ন উঠলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন জাতিকে নতুনভাবে ভাবতে শেখানো এক প্রেরণার নাম। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় ক্ষমতা নয়, আদর্শই একজন মানুষকে ইতিহাসে অমর করে রাখে।
তাঁর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন আমরা দেশপ্রেম, সততা, দায়িত্ববোধ ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করব। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
৩০ মে তাই শুধু শোকের দিন নয়; এটি জাতীয় অঙ্গীকারের দিন। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে। তাঁর আত্মত্যাগ, সততা, দেশপ্রেম ও উন্নয়নদর্শন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঙালি জাতিকে পথ দেখাবে এই প্রত্যাশাই হোক তাঁর শাহাদাতবার্ষিকীর প্রধান প্রেরণা।
লেখক:
আতিকুর রহমান রুমন
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব
সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক দিনকাল
আহবায়ক
আমরা বিএনপি পরিবার ও সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








