ঈশ্বরগঞ্জে ২ গ্রামের সংঘর্ষে পণ্ড বিয়েবাড়ি, হামলা-লুটের অভিযোগ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিরোধের জেরে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানের সব আয়োজনে হামলা-ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চরআলগী গ্রামের ১৫ থেকে ২০টি বাড়িঘর কুপিয়ে হামলা ও লুটের পর এলাকার অর্ধশতাধিক খড়ের গাদা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর ও চরআলগী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ।
এদিকে হামলার সময় চরআলগী গ্রামের হতদরিদ্র নাজিম উদ্দিনের মেয়ে আসমা খাতুনের বিয়ের আয়োজনে হামলা চালিয়ে রান্না করা খাবার ও অতিথিদের বসার স্থান তছনছ করে দেওয়া হয়| ভাঙচুর করা হয় থালা বাসন।
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন জানান, বিনা কারণে এমন ঘটনার পর তার ভাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন| বর আসার আগেই এমন ঘটনায় সবাই অবাক হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
চরআলগী গ্রামের কেনান নামে একজন জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বড় সন্ত্রাসী হামলা যারা করেছে আমরা তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মরিচারচর গ্রামের ইব্রাহিম খলিল, রোমান,হৃদয়, শিপন ও তুহিনসহ স্থানীয় অন্ত্যত ১০ জন বাসিন্দা জানান, ঈদের দিন বিকালে উচাখিলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের বটতলায় মরিচারচর গ্রামের তুহিন (২০) নামে এক তরুণ তার বিশ বছর বয়সী বোন জিনু আক্তারকে নিয়ে ঘুরতে যায়। এসময় চরআলগী গ্রামের কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা।
তুহিনের বোন জিনু আক্তারকে লক্ষ্য করে অশ্লীল বাক্য ও অঙ্গভঙ্গি করে।
আরও পড়ুনএতে তুহিন বাধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। পরে গতকাল বিকালে মরিচারচর গ্রামের রাব্বি ও রবিন নামে দুইজন বাজারে গেলে চরআলগী গ্রামের কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা ফের তাদের ওপর আক্রমণ করে। এসময় প্রাণ বাঁচাতে রাব্বি ও রবিন বাজারের ইব্রাহিম খলিলের দোকানে আশ্রয় নেয়।
বিষয়টি সমাধানের জন্য গতকাল শনিবার আনুমানিক রাত ৯টার দিকে ইব্রাহিমকে ডেকে চরআলগী নিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করেন চরআলগী গ্রামের বাসিন্দারা। এরই জের ধরে ক্ষোভে আজ রবিবার সকালে মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দারা চরআলগী গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর আক্রমণ করে।
ইব্রাহিম খলিল আরও জানান, বিয়ে বাড়িতে হামলা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়টি সাজানো নাটক। তারা নিজেরাই নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠান ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দু'পক্ষের ইব্রাহীম খলিল, তুহিন,হৃদয়, মঞ্জুরুল হক ও সাগর মিয়াসহ অন্ত্যত ১০ স্থানীয় বাসিন্দা আহতের খবরও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, ঈদের দিন বিকালে উচাখিলার বটতায় ফুচকার অর্ডার দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এরই জের ধরে আজকে বিয়ে বাড়িসহ চরআলগী গ্রামের ৩০ থেকে ৪০ টি বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর করেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1780231354.jpg)



_medium_1780229214.jpg)
