ভিডিও রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ মে, ২০২৬, ০১:৪০ রাত

গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়েছে ৫১ দেশ, ভারত দ্বিতীয়

ছবি, সংগৃহীত, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়েছে ৫১ দেশ, ভারত দ্বিতীয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বরতার বিরুদ্ধে যখন বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠছিল তখনও আড়ালে-আবডালে ইসরায়েলের হাতে মারণাস্ত্র তুলে দিচ্ছিল বিশ্বের বহু দেশ। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মাসব্যাপী অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছিল। বৈশ্বিকে এই তালিকায় অস্ত্র সরবরাহের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে তীব্র শীতের দিনে যখন নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বাইরে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের গণহত্যার নিন্দা জানাচ্ছিলেন, অস্ত্রের এই সরবরাহ থামেনি।

গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত কনভেনশনের প্রায় আট দশকের ইতিহাসে কেবল কয়েকটি মামলা এই আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। মামলাটি করেছি দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির পক্ষে আইরিশ আইনজীবী ব্লিন নি ঘরালাইঘ আদালতকে জানান, গাজায় প্রতিদিন গড়ে ১১৭টির বেশি শিশু এবং ৪৮ জন মা নিহত হন।

এই সতর্কবার্তার পর ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি আইসিজে মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে গাজায় গণহত্যার বাস্তব ঝুঁকি উল্লেখ করে গণহত্যা ঠেকাতে বিশ্বকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এ রায় ঘোষণার পরও ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগ পর্যন্ত পরবর্তী ২২ মাসে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। আহত হন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। এই পুরো সময় জুড়ে ইসরায়েলে অস্ত্রের জোগান অব্যাহত ছিল।

অস্ত্র রপ্তানি

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় ৫১টি দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে গেছে। দেশগুলো জাতিসংঘের গণহত্যা প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সদস্য। কিছু ক্ষেত্রে, সামরিক সরঞ্জামগুলো এমন সব দেশ থেকে এসেছে যারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল বা দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ আংশিকভাবে স্থগিত করেছিল।

প্রকৃতপক্ষে, ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) তথ্য অনুযায়ী, আইসিজের রায়ের পর ইসরায়েলে অস্ত্র আমদানি আরও বৃদ্ধি পায়। সরবরাহের বেশিরভাগই ছিল গোলাবারুদ (মুনিশন) ক্যাটাগরির অধীনে। ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো শীর্ষ পাঁচটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রোমানিয়া, তাইওয়ান এবং চেক প্রজাতন্ত্র। দেশগুলো যুদ্ধের সময় তাদের অস্ত্রের চালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

অনেক দেশ ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। আইটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক সরঞ্জামের চালান ইসরায়েলে প্রবেশ করে। এর মধ্যে ছিল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক অস্ত্র, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং সাঁজোয়া যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম। এই আমদানির মোট মূল্য ধরা হয়েছে, প্রায় ৩.২২ বিলিয়ন শেকেল (৮৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার)। এই আমদানির প্রায় ৯১ শতাংশই এসেছে আইসিজে’র রায়ের পর।

২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের ২০ মাসে ইসরায়েলে সামরিক আমদানি ছিল ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন শেকেল (৩৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার)। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, গাজায় গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়ে যেতে ইসরায়েল বিদেশি অস্ত্র সরবরাহের ওপর তাদের নির্ভরতা কতটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবরে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অস্ত্র সরবরাহ থামেনি। ২০২৫ সালের শেষ দুই মাসেও ইসরায়েল আরও ৩২৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন শেকেল (৮ কোটি ৯৪ লাখ ডলার) মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে।

অস্ত্রের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন

আইটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় ইসরায়েলে সবচেয়ে বেশি সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র। অনুসন্ধানে আল জাজিরার ঘোষিত মূল্যের ৪২ শতাংশেরও বেশি পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই তালিকায় প্রায় ২৬ শতাংশ সরবরাহ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। অর্থাৎ, অস্ত্র আমদানির মোট মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ছিল এই দুটি দেশের দখলে।

পরবর্তী তিনটি অন্যতম সরবরাহকারী দেশ রোমানিয়া (৮ শতাংশ), তাইওয়ান (৪ শতাংশ) এবং চেকপ্রজাতন্ত্র (৩ শতাংশ)। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ইসরায়েলের অস্ত্র আমদানির মোট মূল্যের প্রায় ১৯ শতাংশের জন্য দায়ী। এছাড়া আরও প্রায় ৮ শতাংশ এসেছে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। এর মধ্যে তাইওয়ান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম এবং সিঙ্গাপুরও রয়েছে।

সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সরবরাহের ধরনেও পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে অনুসন্ধানে। জানুয়ারী ২০২২ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বিস্ফোরক যুদ্ধাস্ত্রের ‘এইচএস কোডের’ অধীনে ইসরায়েলে পাঠানো মোট ৮০ দশমিক ৯ মিলিয়ন শেকেল (২২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের দুটি বৃহত্তম চালান এসেছিল আজারবাইজান থেকে। গাজায় যুদ্ধ চলাকালীন এটি কমে মোট ৮ দশমিক ২ মিলিয়ন শেকেলে (২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার) দাঁড়ায়। একই এইচএস কোডের অধীনে ২০২২ সালের আগস্টে নেদারল্যান্ডস থেকে উৎপাদিত ৪০ দশমিক ৪ মিলিয়ন শেকেল (১১ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইসরায়েলে পাঠানো হয়। পুরো যুদ্ধজুড়ে ইসরায়েলে ডাচ সামরিক রপ্তানির মূল্য ছিল মাত্র ১০৫ হাজার শেকেল (২৯ হাজার ডলার)। ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানান, ইসরায়েলে সামরিক পণ্যের রপ্তানি কেবল সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক উদ্দেশ্যে অনুমোদিত।

কিন্তু আল জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী ২১ মাসের তুলনায় বেশ কয়েকটি দেশ যুদ্ধের সময় ইসরায়েলে তাদের সামরিক সরঞ্জাম আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তার মধ্যে শীর্ষ পাঁচ সরবরাহকারীও রয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু দেশের সামরিক সরবরাহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যারা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে’র রায়ের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিল।

যেমন চীন বলেছিল, তারা আশা করে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হবে। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালীন চীন থেকে ইসরায়েলে ৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন শেকেলের (১৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার) সামরিক সরঞ্জাম গেছে। চালানের প্রায় ৮৩ শতাংশই পাঠানো হয়েছে আদালতের রায়ের পর।

প্রকাশ্যে আমদানি নিষেধাজ্ঞা, গোপনে সরবরাহ

যুদ্ধ যত চলছিল, বিশ্বের বড় বড় শহরজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছিল। চাপের মুখে অনেক দেশের সরকার ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণাও দেয়। অনেক দেশ অস্ত্র বিক্রির সীমিত স্থগিতাদেশ বেছে নেয়। তারা সাধারণত নির্দিষ্ট লাইসেন্স বা সামরিক সরঞ্জামের ক্যাটাগরির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে প্রয়োগ করে।

সাসেক্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এবং বৈশ্বিক অস্ত্র ব্যবসার বিশেষজ্ঞ অ্যানা স্ট্যাভরিয়ানাকিস বলেন, সরকারকে তাদের রপ্তানি নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে জনগণের চাপ একটি নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা পালন করেছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে এটি ছিল জনগণের প্রতিবাদ, শ্রমিক সংগঠন এবং কৌশলগত মামলা যা অস্ত্র রপ্তানিকারক রাষ্ট্রগুলোকে স্থানান্তর পুনর্বিবেচনা বা সীমিত করতে বাধ্য করেছে।

আরও পড়ুন

গাজার পশ্চিম তীরভিত্তিক এনজিও আল-হক এবং অলাভজনক গ্লোবাল লিগ্যাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (জিএলএএন) দ্বারা আনীত একটি মামলা আদালতে যুক্তরাজ্যের অস্ত্র রপ্তানিকে চ্যালেঞ্জ করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মামলায় সমর্থন জানায়। স্পেনে ডক শ্রমিকরা ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজগুলো খালাস করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে কর্তৃপক্ষ চালানগুলো স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

কানাডায় বিক্ষোভ ও আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে সরকার অস্ত্রের নতুন পারমিট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। ফ্রান্সেও বড় আকারে বিক্ষোভ অস্ত্র বিক্রির ওপর নজরদারি বাড়িয়ে দেয়।

স্ট্যাভরিয়ানাকিস বলেন, দেশগুলোর ভেতরের এই বিতর্কগুলো ইসরায়েলের প্রতি সরকারের কৌশলগত প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলা নিশ্চিত করার অভ্যন্তরীণ দাবির মধ্যে উত্তেজনা প্রকাশ করেছে। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের একজন বিশেষজ্ঞ মার্টিন ড্রিউ যুক্তি দিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য কেবল রপ্তানি সীমিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজন।

 

আমদানির তথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আইটিএ আট-ডিজিটের কাস্টমস কোড দ্বারা বিন্যস্ত আমদানির একটি সর্বজনীনভাবে অ্যাক্সেসযোগ্য ডেটাবেস রক্ষণাবেক্ষণ করে। এই কোডগুলো ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের হারমোনাইজড সিস্টেম (এইচএস) অনুযায়ী গঠিত। প্রথম ছয়টি ডিজিট আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্মত পণ্য ক্যাটাগরির সঙ্গে মিলে যায়। এই কোডের সঙ্গে অতিরিক্ত ডিজিট যোগ করে দেশগুলোকে আরও বিস্তারিত জাতীয় পরিসংখ্যান প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়। ইসরায়েল বৈশ্বিক ছয়টি ডিজিট এবং জাতীয় বিবরণের জন্য দুটি অতিরিক্ত ডিজিটসহ আট-ডিজিটের কোড ব্যবহার করে থাকে।

আল জাজিরা ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি আমদানির অন্তর্ভুক্ত ৬৫ লাখেরও বেশি স্বতন্ত্র কাস্টমস এন্ট্রি বিশ্লেষণ করেছে। এই অনুসন্ধানটি মূলত সেসব আমদানির ওপর ফোকাস করেছে যার কাস্টমস কোড ‘৯৩’ দিয়ে শুরু হয়। এই কোডের আওতায় থাকে অস্ত্র ও বুলেট সংক্রান্ত রপ্তানি কভারকারী এইচএস চ্যাপ্টার। পাশাপাশি কোড ৮৭১০০০০০ কোড দিয়ে ট্যাংক, অন্যান্য সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং তাদের যন্ত্রাংশ নির্দেশ করে।

ইসরায়েল অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে যেসব কোড ব্যবহার করে

ইসরায়েলের কাস্টমস কোডবুক অনুযায়ী, ৯৩০৬৯০৯০ কোড দিয়ে- বোমা, গ্রেনেড, টর্পেডো, মাইন, মিসাইল এবং অনুরূপ যুদ্ধের মারণাস্ত্র ও যন্ত্রাংশ নির্দেশ করে। এছাড়া কার্তুজ, কিছু গোলাবারুদ ও প্রজেক্টাইল এবং যন্ত্রাংশও রয়েছে। শুধু বুলেটের কোড হলো ৯৩০৬৯০১০।

৯৩০৫১০০০ কোড হলো, সামরিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক, যার মধ্যে রিভলভার এবং পিস্তল অন্তর্ভুক্ত। শটগান এবং রাইফেল কোড ৯৩০৫২০০০। আরও কিছু বিশেষ যন্ত্রাংশ ও আনুষাঙ্গিকের জন্য ৯৩০৫৯৯০০ কোড ব্যবহার করা হয়। রকেট লঞ্চার, ফ্লেমথ্রোয়ার, গ্রেনেড লঞ্চার, টর্পেডো টিউব এবং অনুরূপ প্রজেক্টরের জন্য ৯৩০১২০০০ কোড ব্যবহৃত হয়।

এইচএস কোড ৯৩-এর অর্থ কী

যেহেতু ইসরায়েলি আমদানির ডেটাসেটে সুনির্দিষ্ট মডেল বা শেষ ব্যবহারকারীর কথা উল্লেখ না থাকায় আল জাজিরা স্বাধীন নথিপত্র খুঁজেছে কোডটি যাচাই করার জন্য। ৯৩ দিয়ে শুরু হওয়া এইচএস কোডের অধীনে রেকর্ড করা চালানগুলো নামী প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে স্থানান্তরিত শনাক্তযোগ্য অস্ত্রের উপাদানের সঙ্গে মিল আছে কি না মূলত তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।

আল জাজিরা ২০২৪ সালে ৯৩০৬৯০০০ ক্লাসিফিকেশন কোডের অধীনে ইসরায়েলে অস্ত্র সংক্রান্ত চালান কভারকারী ৯১টি ভারতীয় কাস্টমস রপ্তানি নথি সংগ্রহ করেছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস বুক অনুযায়ী, এইচএস কোড ৯৩০৬ বলতে বোমা, গ্রেনেড, টর্পেডো, মাইন, মিসাইল এবং অনুরূপ যুদ্ধের মারণাস্ত্র ও যন্ত্রাংশ বোঝানো হয়। এর ভারতীয় সাব ক্যাটাগরি ৯৩০৬৯০০০-কে বোমা, গ্রেনেড হিসেবে লেবেল করা হয়েছে।

নথিগুলোতে দেখা যায়, ভারতীয় সংস্থাগুলো রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস, আইএমআই সিস্টেমস লিমিটেড এবং এমসিটি মেটেরিয়ালস সহ ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের কাছে অস্ত্রের উপাদান রপ্তানি করছে।

আইনগত প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা থাকা অবস্থায় কোনো দেশ যদি অস্ত্র বা সামরিক উপাদান সরবরাহ অব্যাহত রাখে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণহত্যা প্রতিরোধ সনদের অধীনে রাষ্ট্রগুলোর শুধু গণহত্যার শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব নয়, তা প্রতিরোধের দায়িত্বও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির অধীনেও এমন পণ্য হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যদি তা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। তবে কোন দেশ আইনি দায়ে পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, অনুমোদন প্রক্রিয়া, পণ্যের ধরন এবং চূড়ান্ত ব্যবহারের প্রমাণের ওপর।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়েছে ৫১ দেশ, ভারত দ্বিতীয়

ভুল করলে দেশের মানুষ কাউকেই ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

রামিসা হত্যার মামলার চার্জশিট দাখিল আজ

কে হচ্ছেন পাকিস্তানের নতুন অধিনায়ক

রামিসার জন্য নীরব প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে বগুড়ার তুরাগ

সীমান্তে উত্তেজনার পর বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক