বগুড়ায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২ মাসে প্রাণহানি ১৮
স্টাফ রিপোর্টার : গত চার দিনে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে আয়াত নামে সাত মাস বয়সী এক শিশু মারা যায়। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায়। এর আগে গত ২০ মে আদনান নামে ৬ মাস বয়সী এবং ২২ মে আব্দুর রহমান নামে ৫ মাস বয়সী আরও দুটি শিশু একই উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে ৪১৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের সংগৃহীত নমুনার ল্যাব রিপোর্টে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত হাসপাতালটির বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৫৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক ডেথ কেস বা মৃত্যু তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মৃত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স ৫ থেকে ১০ মাসের মধ্যে। চিকিৎসকদের মতে, হামের সরাসরি সংক্রমণের চেয়ে এর পরবর্তী তীব্র শারীরিক জটিলতার কারণেই শিশুদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
তালিকায় থাকা ১৫ জন শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে মূলত হামের পাশাপাশি তীব্র ফুসফুসের সংক্রমণ বা ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসকে দায়ী করা হয়েছে। তালিকায় থাকা শেরপুরের ৮ মাস বয়সী শিশু রাশমিকার ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় হামের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায় এবং বাকিদের তীব্র উপসর্গ থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়েছিল।
এদিকে বগুড়া সিভিল সার্জন জানিয়েছে, বগুড়া হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে ১৮ শিশু মারা গেছে। এরমধ্যে ৯ শিশু বগুড়ার বাকি ৯জন অন্য জেলার। ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে বগুড়া শহরের ২টি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে ৫৭৪ শিশু ভর্তি হয়ে হামের চিকিৎসা নিয়েছে।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৭০ শিশু। এরমধ্যে শজিমেক হাসপাতালে ৫৩জন, মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ৯জন, টিএমএসএস হাসপাতালে ৬জন এবং সোনাতলা উপজেলা হাসপাতালে ২ শিশু ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনসার্বিক পরিস্থিতি ও হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মহসিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে।
চিকিৎসকেরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অধিকাংশ শিশু অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় বা শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছে, যখন নিউমোনিয়া বা এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করে।
পরিচালক আরও বলেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বর্তমানে এই রোগের প্রাদুর্ভাব শুধু বাংলাদেশেই নয় পথিবীর অন্যান্য দেশেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি প্রতিরোধে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে।
৯ মাস বয়স হলেই শিশুকে অবশ্যই ইপিআই কর্মসূচির আওতায় হামের প্রতিষেধক বা এমআর টিকা দিতে হবে। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে ঘরে ফেলে না রেখে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


_medium_1779537031.jpg)

_medium_1779533795.jpg)

_medium_1779530451.jpg)

