বগুড়ার কাহালুতে গায়ে আগুন দিয়ে মায়ের আত্মহত্যা, সঙ্গে পুড়ে মারা গেল মেয়েও
কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি : কাহালুতে গায়ে আগুন দিয়ে সোনিয়া খাতুন (২৯)নামে এক নারী আত্নহত্যা করেছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ১০ বছর বয়সি ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে নিহা মনি একই আগুনে পুড়ে মারা গেছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকাল পৌনে ৭ টার দিকে কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের শিকড় গ্রামে সোনিয়ার বাবা আব্দুল মান্নানের বাড়িতে।
স্থানিয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১২ বছর আগে কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের শিকড় গ্রামে আব্দুল মান্নানের মেয়ে সোনিয়া খাতুনের সাথে একই উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের জোগাড়পাড়া গ্রামের মো: নাদিমের বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের মেয়ে নিহার জন্মের কয়েক বছর পর সোনিয়া খাতুনের সাথে স্বামী নাদিমের বিয়ে বিচ্ছেদও ঘটে।
এরপর সোনিয়া শিকড় গ্রামে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। অপর দিকে মেয়ে নিহা জোগাড়পাড়া গ্রামে তার বাবা নাদিমের সাথে থাকতো। তবে মাঝে মধ্যে সে তার মায়ের কাছে আসতো এবং থাকতো। এদিকে প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার পর গত কয়েক মাস আগে সোনিয়ার পার্শ্ববর্তী সুবইল গ্রামের সাব্বির হোসেন নামে এক ব্যক্তির সাথে ২য় বিয়ে হয়।
সোনিয়া মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হওয়ায় বেশিরভাগ সময় তার বাবার বাড়িতে থাকতেন। অপর দিকে ঘটনার তিনদিন আগে নিহা তার মায়ের কাছে আসে। ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে সোনিয়া মেয়ে নিহাকে নিয়ে তার শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে বাড়ির লোকজন ঘরের মধ্যে ধোয়া দেখতে পান।
এরপর লোকজন দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান সোনিয়া আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এসময় তার মেয়ে নিহা মনিকে মারাত্বক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নিহাও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তবে তাদের শরীরের আগুনে ঘরের সব আসবাব পত্র পুড়ে যায়।
আরও পড়ুনসংবাদ পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যগন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের আগুন নিভিয়ে ফেলে সোনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে কাহালু থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। প্রতিবেশীরা বলছে সোনিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন হবার কারনে আত্নহত্যার উদ্যেশ্যে সোনিয়া নিজে এবং তার ঘুমন্ত মেয়ে নিহার শরীরে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
ওই আগুনে পুড়ে তার মেয়েও মারা যায়। সোনিয়ার ঘরের মধ্যে পেট্রোলের বোতল ছিল বলে জানা যায়। কাহালু থানার ওসি মো. শফিকুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোনিয়া এর আগেও কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
সর্বশেষ আগুনে সোনিয়া আগুনে পুড়ে মারা যায়। সঙ্গে তার মেয়েও পুড়ে মারা যায়। ওসি জানান, স্থানিয়রা ও স্বজনরা পুলিশকে বলেছে সোনিয়া তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সঙ্গে তার মেয়েও অগ্নিদগ্ধ হয়।
এরপর মেয়েটিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকের কলেজ হাসপাতারে নেয়ার পরপরই মারা যায়। সোনিয়া ও তার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওই হাসপাতার মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন







