ভিডিও বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২০ মে, ২০২৬, ১১:০৪ রাত

ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হাট

বগুড়া মহাস্থান পশুর হাটে হাসিল আদায় নিয়ে অসন্তোষ ক্রেতাদের

ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুররিত হাট মহাস্থান পশুর হাটে হাসিল আদায় নিয়ে অসন্তোষ ক্রেতাদের

স্টাফ রিপোর্টার : মাত্র এক সপ্তাহ পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে  উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক বগুড়ার মহাস্থান গরুর হাট ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল। আজ বুধবার (২০ মে) সকাল থেকেই হাটের চারপাশ এবং সংযোগ সড়কগুলোতে পশুবাহী গাড়ির দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। এবারের হাটে মাঝারি ও বড় সাইজের দেশি গরুর সরবরাহ সবচেয়ে বেশি।

দেশি গরুর পাশাপাশি হাটে উঠেছে বিশাল আকৃতির বেশকিছু আকর্ষণীয় গরু, যা দেখতে হাটে আসা সাধারণ মানুষ ও ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। বিক্রেতারা জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা গরুর চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা চড়া বলে দাবি করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে কিছুটা চিন্তিত খামারি ও বিক্রেতারা। তবে এবার মহাস্থান হাটে সবচেয়ে বেশি হাসিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ার এই হাটে প্রচুর গরু-ছাগল উঠেছিল আজ বুধবার (২০ মে), বিক্রিও হচ্ছে ভালো। তবে সাধারণ কুরবানিদাতার চেয়ে পাইকারে আধিক্য বগুড়ার হাটগুলোতে। বগুড়া থেকে পশু কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট যাচ্ছেন পাইকারেরা। আর একারণেই জমে উঠেছে বগুড়ার কুরবানির পশুর হাট। পশুর হাট জমে উঠলেও হাটের হাসিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

বগুড়ায় গরুর জন্য হাসিল ৮শ’ টাকা নির্ধারণ করা হলেও হাসিল আদায় করা হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে মুখরিত মহাস্থান হাটে গরু-ছাগল, ভেড়া ও মহিষসহ বিভিন্ন কুরবানিযোগ্য পশুর আমদানি বেড়েছে। হাটে বড় গরু থাকলেও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। চাহিদা অনুযায়ী ছোট গরুর দামও তুলনামূলক বেশি।

হাটে গরুর দাম বেশি চাওয়া সম্পর্কে খামারিরা বলছেন, খাবারের দাম ও অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়ায় গরু-ছাগলের দামও বেড়েছে। জেলার অন্যতম এই পশুর হাটে প্রতি হাটে কয়েকশ’ কোটি টাকার কুরবানির পশু কেনাবেচা হয়।

আরও পড়ুন

গতকাল হাট ঘুরে দেখা যায়, এই হাটে প্রতিবছর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু-ছাগল নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। জেলার অন্যান্য হাটের চেয়ে এই হাটে গরুর আমদানি বেশি বলে ক্রেতারাও ছোটেন এই হাটে। বেলা ১১টা থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে মহাস্থান হাটে।

ক্রেতারা হাটজুড়ে ঘুরে ঘুরে পছন্দের গরু-ছাগল নির্বাচন করেন। পছন্দ হলে শুরু হয় দরদাম কষাকষি। তবে কুরবানির পশুর মধ্যে গরুর আমদানি ভালো হলেও ছাগলের সংখ্যা কম ছিল। গত বছর যে গরুর দাম এক লাখ টাকা ছিল, এবছর সেই গরুর দাম ১ লাখ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঐতিহ্যবাহী এই হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতও করা হয়েছে। তবে হাটের খাজনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। কারণ অতীতের খাজনার রেকর্ড ছাড়িয়ে।

এ হাটে গরুর হাছিল অর্থাৎ খাজনা ক্রেতাদের জন্য ১২শ’ টাকা এবং বিক্রেতাদের জন্য ২০০ টাকা মোট ১৪শ’ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ছাগলের ক্ষেত্রেও অবস্থা একই। একটি ছাগলের প্রতি খাজনা নেওয়া হচ্ছে ক্রেতার কাছ থেকে ৫শ’ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১শ’ টাকা। এতে ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হাসিল বেশি নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে হাটের ইজারাদার শাহাদাত হোসেনের সাথে সাথে মোবাইল ফোনে যোগায়োগ করে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়া মহাস্থান পশুর হাটে হাসিল আদায় নিয়ে অসন্তোষ ক্রেতাদের

পাবনায় অপহরণকারী চক্রের ৮ সদস্য আটক, দুই কলেজ শিক্ষার্থী উদ্ধার

রামিসা হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো পুলিশ

পাবনার চাটমোহরে জুয়েলারির দোকানে রহস্যজনক চুরি

নওগাঁর রাণীনগরে বিশেষ অভিযানে ৭ জন গ্রেফতার

এবারের ঈদেও বুবলীর সিনেমা