ভিডিও মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৯ মে, ২০২৬, ০৯:৩১ রাত

ঈদুল আযহার বাকি এক সপ্তাহ : বগুড়ার বিপণিবিতানগুলোতে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ছবি: দৈনিক করতোয়া, বগুড়ার বিপণিবিতানগুলোতে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল আযহার মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এমন উৎসব উপলক্ষ্যে অন্যান্য বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েও ক্রেতা মিলছে না কাপড়ের দোকানগুলোতে। বগুড়ার মার্কেট এবং বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতার খরা চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত ক্রেতা সংকট এর আগে তারা মোকাবেলা করেননি। বগুড়া শহরের অভিজাত এলাকা বলে খ্যাত জলেশ্বরীতলাতে অবস্থিত বিপণিবিতানগুলোতে সারা বছর ছাড় থাকলেও ঈদের সময় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের স্টিকার লাগানোর এমন চিত্রই চোখে পড়ে। প্রতিটি শোরুমে ডিসকাউন্ট লিখে রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু শোরুমে দু’টি কিনলে একটি ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। আরও আছে বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড, বিকাশ ও নগদে লেনদেনে রয়েছে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও উপহারের অফার। কিন্তু এত ছাড় দেওয়ার পরও বিক্রেতারা আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না। বিপণিবিতানের মতো বগুড়ার হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেট, রানা প্লাজা, পুলিশ প্লাজা সবখানেই সাধারণ সময়ের চেয়ে ক্রেতারা কম আসছেন। ঈদ উৎসবের দিন ঘনিয়ে এলেও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না কাপড় ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকার সম্প্রতি রাত ১০টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দিলেও বাড়তি সময়েও ক্রেতার খরা কাটছে না। মাঝের কিছুদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকেই বেচাকেনা কম। যে যার মতো করে ছাড় দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ঈদ উপলক্ষ্যে ছাড়ের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ নিজেদের সংসারের খরচ তুলতে পারব কিনা তাতেও সন্দেহ রয়েছে। বগুড়ার শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার সারা, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, শৈশব, লেন্ড, জোস, ফড়িং, লুবনান, প্লাস, এমবি ফ্যাশানসহ প্রায় প্রতিটি শোরুমে তাদের নিজস্ব প্রোডাক্টের ওপর সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শোরুম খোলা থাকলেও ক্রেতা আসছেন না। মাঝে মাঝে যারা আসছেন তারাও বাজেটের অজুহাতে বের হয়ে চলে যাচ্ছেন।

বিক্রেতারা জানান, কুরবানির এই ঈদে কাপড়ের দোকানে তেমন একটা ভিড় থাকে না। তবে এবারের অবস্থা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ কম। একই অবস্থা বগুড়ার নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদেরও। তারা বলেন, এবারের ঈদ মার্কেটে ক্রেতাদের চেয়ে দর্শনার্থী বেশি এবং রোজার ঈদের মাঝখানে ক্রেতার সংখ্যা আরও কম ছিল। আমরা লাভের জন্য নয়, খরচ তোলার জন্য সীমিত লাভেও পণ্য বিক্রি করছি। ক্রেতারা আসছেন গজ কাপড়ের দোকান থেকে গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা কাপড় কিনছেন। আর শাড়ি, কসমেটিকসসহ আন্যান্য সামগ্রী কিনছেন ঈদে ছুটির ফাঁদে বিয়ে আয়োজনের জন্য।

আরও পড়ুন

কসমেটিকসের শোরুমেও ক্রেতা নেই। সারাদিনে হালকা কিছু পণ্য বিক্রি হচ্ছে, বলছিলেন বগুড়া নিউ মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী রাব্বি। এদিকে নিউ মার্কেটে এবং শোরুমে আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,  কুরবানি ঈদে পছন্দের দামি কাপড় কিনতেই হবে এমন ব্যাপার না। তাই সময় করে ঘুরতে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী কিনতে এসেছেন। তারা বলেন, বাজারে প্রতিটি পণ্যের আকাশ ছোঁয়া দাম। গত দুইমাস আগেই অনেক খরচ করে রোজার ঈদ পার করেছেন। সেই ধাক্কা যেতে না যেতেই কুরবানির ঈদ। এই ঈদে বেতনের একটা বড় অংশ কুরবানির পশু কিনতে চলে যায়। কাজেই এই ঈদে কাপড়ের চেয়ে তাদের কেনার তালিকায় আছে কসমেটিকস, নিত্য প্রয়োজনীয়পণ্য যেমন হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসারকুকার, বাসনপত্র, বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদুল আযহার বাকি এক সপ্তাহ : বগুড়ার বিপণিবিতানগুলোতে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চলবে ১৭ ফেরি ও ২০ লঞ্চ

ভারত সফর করবেন ভ্লাদিমির পুতিন

ইউরোপের শিক্ষার সাথে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার তফাৎ দেখালেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নেছারাবাদে পরিত্যক্ত ঘরের পাশে তান্ত্রিকের মরদেহ

পাবনায় চাহিদার দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত লাভের আশা খামারিদের