পাউবো’র অব্যবস্থাপনা ও ঠিকাদারদের গাফিলতির অভিযোগ
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাঘাটায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া প্রায় ১০১ কোটি টাকার তীররক্ষা প্রকল্প এখন অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও তদারকির দুর্বলতায় হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে প্রকল্পটি কার্যত লোক দেখানো কাজে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে মুন্সিরহাট এলাকায় দেখা গেছে, নদীতীরে ব্লক ডাম্পিংয়ের আগে ব্যবহৃত হচ্ছে পুরোনো ও ছেঁড়া জিও ম্যাট। অনেক স্থানে খোয়ার পরিবর্তে মাটি ও রাবিশ মিশ্রিত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। জিও ব্যাগে নিম্নমানের বালু ও মাটি ভরাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারি ও টেকসই সিসি ব্লকের পরিবর্তে নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করায় পুরো প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

পাউবো সূত্র জানায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় চারটি প্যাকেজে নদীতীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়। চার প্যাকেজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০১ কোটি টাকা। তবে প্রকল্প এলাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের প্রভাবেই কয়েকটি প্যাকেজের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এরপর থেকেই অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ বেড়ে যায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুন্সিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ইবনে সাঈদ বলেন, বর্ষা এলেই তড়িঘড়ি করে কিছু কাজ দেখানো হয়। কিন্তু কাজের মান খুব খারাপ। এভাবে নদীভাঙন ঠেকানো যাবে না। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের আশঙ্কা, প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে মুন্সিরহাট বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শত শত বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হতে পারে।
আরও পড়ুন
তবে গাইবান্ধা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজে অনিয়মের সুযোগ নেই। নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
যদিও স্থানীয়দের প্রশ্ন-যদি কাজের মান ঠিকই থাকে, তাহলে কেন ব্যবহার হচ্ছে পুরোনো জিও ম্যাট ও নিম্নমানের উপকরণ? আর কেনই বা শত কোটি টাকার প্রকল্প এলাকায় নেই কোনো তথ্যফলক? বর্ষা ঘনিয়ে আসায় মুন্সিরহাটবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় শত কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি যমুনার ভাঙনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন

_medium_1778922123.jpg)







