ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ, পাশাপাশি কবরে সমাহিত একই পরিবারের পাঁচ সদস্য
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া গ্রামের মীর কালামের পরিবারের পাঁচ সদস্য।
আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মীর কামালের কবরের পাশেই স্ত্রী ও সন্তানদের দাফন করা হয়।
শনিবার সকাল ১০টায় উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহত চারজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় শত শত মানুষ অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। পরে মীর কালামের কবরের পাশেই তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত রবিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই
পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের চান্দে আলীর ছেলে মীর কামাল (৪৫)। এরপর বুধবার মারা যায় ছোট মেয়ে কথা (৪)। বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় একমাত্র ছেলে মুন্না (৭) এবং দুপুরে মারা যায় বড় মেয়ে মুন্নি (১০)। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্ত্রী সায়মা বেগম
(৩৫)।
স্থানীয়রা জানান, অত্যন্ত পরিশ্রমী, বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কামাল। অল্প আয়েও পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। গ্রামের বাড়িতে নিজের একটি ঘর নির্মাণ ছিল তার বহুদিনের স্বপ্ন। ঘরও নির্মাণ করেছিল কামাল। কিন্তু সেই স্বপ্নের ঘরে স্ত্রী সন্তানদেরস নিয়ে বসবাস করা হলো না তার। ঈদের সময় পরিবার নিয়ে বাড়ি আসার কথা ছিল কামালের। কিন্তু এভাবে পাঁচটি লাশ হয়ে ফিরবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
নিহত মীর কালামের চাচাতো ভাই মীর রফিক বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনকে হারিয়ে আমরা সবাই শোকে স্তব্ধ। গ্রামের মানুষ মিলে দাফনের সব ব্যবস্থা করেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান হাওলাদার বলেন, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সবাই শোকাহত।
পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনের সংসদ সদস্য ড. সফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমি ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় তাদের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করেছি। মরদেহ পটুয়াখালীতে নিয়ে আসার জন্য যা যা করা দরকার সেগুলোর ব্যবস্থা করেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু যা আমাদেরকে অনেক কষ্ট দিয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







