বগুড়ায় চিকিৎসকের ওপর হামলা
চার দাবিতে শজিমেক ইন্টার্নদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার : চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হামলায় জড়িতদের বিচার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে এক মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়। দুপুরে মানববন্ধন চলাকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি বন্ধ থাকে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ঘোষিত চার দফা দাবি আদায়ে তারা গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন।
হাসপাতাল ও রোগীর স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার নিহান নামের ৫ মাসের এক শিশুকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় গত সোমবার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে রক্তও দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার সকাল থেকে শিশুটির অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং একপর্যায়ে বিকেলে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর পরপরই নিহানের স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন এবং এক নারী চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলেন। পরে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা মৃত শিশুর কয়েকজন স্বজনকে আটক করলেও রাত ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ঘোষিত চার দফা দাবিগুলো হচ্ছে-চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাসহ নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
এদিকে বুধবার রাতের এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর পরই শজিমেক হাসপাতালে উপস্থিত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা সভাপতি ডা. আফসারুল হাবিব রোজ। তিনি বলেন, হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে একাধিক পরিদর্শকের উপস্থিতি পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। মৃত শিশুর পরিবারের চারজন নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলেছেন এবং তার নিকাব খোলার চেষ্টা করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সার্বিক বিষয়ে শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন জানান, খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুটির কাছে থাকা এক আত্মীয় প্রথমে চিকিৎসকের গায়ে হাত দেন এবং তার নিকাব সরানোর চেষ্টা করেন। এরপরই সেখানে একটি আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযুক্ত আত্মীয়ও একজন শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বয়সও অনেক কম। ফলে এমন একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলা হয়েছে। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছেন। ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই পুনরায় কাজে ফিরেছেন।
মন্তব্য করুন


_medium_1778767879.jpg)

_medium_1778765702.jpg)



