আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে টানা এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শহরের রাহাতের মোড়, পুরাতন কোর্ট মসজিদ সড়ক, জেলা প্রশাসকের বাংলো সড়ক, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, মাছ বাজার, ফলপট্টি, মিঠাপুকুপুরের উত্তরপাড়সহ বিভিন্ন সড়ক এক থেকে দেড় ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
খোদ বাগেরহাট পৌরসভার সামনের সড়ক, পৌরসভা অভ্যন্তরেও সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বিদ্যমান ড্রেন পরিষ্কার না করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের।
জুতার দোকানের মালিক মুকুল মোল্লা বলেন, বৃষ্টি খুব বেশি হয়নি। এতেই দোকানের ভেতরের মালামাল সব ভিজে গেছে। চেষ্টা করছি, মালামালগুলো রক্ষার। কারণ জুতা ভিজে গেলে তো বিপদ।
পাশের ব্যবসায়ী খন্দোকার আফজাল হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তায় পানি জমে যায়। ময়লায় ড্রেন আটকে থাকার কারণে আসলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এটা শুধু আজ না, ১৫ বছর ধরে আমাদের এ অবস্থা। প্রতিবার বৃষ্টির মৌসুমে কয়েকবার বিপদে পড়তে হয়।
পৌর শহরের মিঠুপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা মোজাম শেখ বলেন, ড্রেন করেছে ঠিকই, কিন্তু পানি তো নামে না। বৃষ্টির শুরুতেই ঘরের মধ্যে পানি, সামনে তো আরও সময় রয়েছে।
আরও পড়ুনএদিকে বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা হলেও, জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি সামান্য বেড়েছে। তবে কোথাও এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার ওপরে যায়নি।
তবে পৌর শহরে জলাবদ্ধতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে চায় না পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা বাগেরহাটের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. মো. ফকরুল হাসান বলেন, বৃষ্টি হলেই পৌরসভা ডুবে যায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পানি আছে। তবে এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।
এদিকে বৃষ্টির কারণে সব থেকে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন বোরো ধান চাষিরা। তবে বৃষ্টি আর না হলে চাষিরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান বাগেরহা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোতাহার হোসেন।
তিনি বলেন, জেলায় এবার এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বৃষ্টির খবরে আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত ১০-১৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কিছু কাটা ধান এখনও মাঠে রয়েছে। কিছু ধান বাতাসে নুয়ে পড়েছে। নুয়ে পড়া ধানের চার-পাঁচ শতাংশ ঝরে পড়বে। তবে বৃষ্টি ও বাতাস আর দীর্ঘস্থায়ী না হলে আশা করা যায়, কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

নিউজ ডেস্ক

_medium_1777477918.jpg)

_medium_1777477321.jpg)


_medium_1777477915.jpg)