ভিডিও বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০১ বিকাল

নওগাঁর রাণীনগরে কালবৈশাখীর তান্ডবে মাঠের ধান নুয়ে পড়েছে 

নওগাঁর রাণীনগরে কালবৈশাখীর তান্ডবে মাঠের ধান নুয়ে পড়েছে 

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে গত সোমবার ভোর রাতে কাল বৈশাখীর তান্ডবে উঠতি ইরি-বোরো ধান জমিতে নুয়ে পড়েছে। পাকা ধানগুলো কাটার আগে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ায়, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ চাষিদের বাড়ি বাড়ি এবং মাঠে গিয়ে যত তড়াতাড়ি সম্ভব পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু শ্রমিক সংকট যেন চাষিদের আতঙ্কের নতুন মাত্রা যোগ দিয়েছে। প্রতি বছর এ সময় দেশের দক্ষিণ জেলাগুলো থেকে শ্রমিক আসলেও এবছর তেমন শ্রমিক আসছে না।

কম-বেশি যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তারা আবার ধান নুয়ে পরার কারণে বিঘা প্রতি অতিরিক্ত টাকা চাচ্ছে। জমি থেকে ধান কাটতে শ্রমিকরা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার নিচে প্রতি বিঘা ধান কাটতে নারাজ। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজার দর কম এবং শ্রমিক সংকট প্রকোট হওয়ায় এলাকার চাষিদের সোনলী হাঁসির বদলে এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ।

উপজেলার হরিশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, আমি সোয়া তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। গত সোমবার ভোর রাতে কাল বৈশাখী ঝড়ে প্রায় সব ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে ধানগুলো কাটতে পারছি না। আকাশ খারাপের কারণে ধানের দামও কমতির দিকে। সব মিলে এবার লোকসানের আভাস দেখতে পাচ্ছি।

আরও পড়ুন

জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়। উপজেলার পশ্চিমাংশে বিল মুনসুর ও বিল চৌর ও নওগাঁর ছোট যমুনা নদী বেষ্টিত নিম্নাঞ্চল হওয়ায় উর্বরা পলি মাটির জমিতে একমাত্র ইরি-বোরো ধান ব্যাপক আকারে চাষ হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও কাল বৈশাখীর তান্ডবে চাষিদের মুখে এখন ফলন বিপর্যয়ের বিষাদের সুর। এদিকে ধান কাটার শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

শ্রমিকের মজুরি গুনতে হচ্ছে চড়া দামে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে ধানের বীজ বপন, চারা উৎপাদন ও কৃষকরা সময় মতো সার সেচ ব্যবহারসহ আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও হঠাৎ করে কাল বৈশাখীর তান্ডবে ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে আকাশ ভালো হওয়ার সাথে সাথে ফলনে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমে আসবে।

এই মৌসুমে ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ধান নুয়ে পরেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে আমরা কৃষি বিভাগ সব সময় মাঠে আছি। চাষিদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধান কেটে ঘরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নওগাঁর রাণীনগরে কালবৈশাখীর তান্ডবে মাঠের ধান নুয়ে পড়েছে 

গর্ভাবস্থায় চামড়ার ফুসকুড়ির কারণ ও প্রতিকার

আসছে ‘থ্রি ইডিয়টস’র সিক্যুয়েল

মৌলভীবাজারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৩০ গ্রাম

বৃষ্টির দিনে মন কেন রোমান্টিক হতে চায়?

কলাপাড়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু