প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪৫ বিকাল
কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে ছাবের আহমদ (৬৯) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোররাতে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের। সম্প্রতি এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেদিনও আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এসময় হঠাৎ একটি বন্যহাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।
একটু দূরে আকেটি ধানক্ষেত পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবেরের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।
তিনি আরও বলেন, ছাবের ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার আয়ে পরিবার চলত। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন ছাবের আহমদই। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যহাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।
ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম অবগত করেন, সরকারিভাবে বন্যহাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।
জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েলের দাবি, হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। তিনি পরামর্শ দেন, হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1776251799.jpg)


_medium_1776248399.jpg)
_medium_1776246741.jpg)
_medium_1776246147.jpg)