মোটরসাইকেলে ব্যাটারি লাগিয়ে চলাচল করছেন বগুড়া সারিয়াকান্দির কান্টু
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : গত ১০ বছর ধরেই মোটরসাইকেলে ব্যাটারি লাগিয়ে চলাচল করেন বগুড়া সারিয়াকান্দির ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন কান্টু। তেল এবং মবিল ছাড়াই তিনি ছুটে চলেন প্রতিদিন। এতে তেল সংকটের সময় তার তেলের পাম্পে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না। তেলের তুলনায় কয়েকগুণ কম খরচে তিনি যাতায়াত করছেন। ৫ থেকে ৬ টাকা খরচে ছুটে চলেন প্রায় ১৫০ কিলোমিটার, যা তেল দিয়ে যেতে খরচ হতো প্রায় ৫০০ টাকা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের মৃত সোবাহান আলী আকন্দের ছেলে আনোয়ার হোসেন কান্টু পেশায় প্রথম জীবনে একজন সাইকেল মেকানিক ছিলেন। পরে তিনি একটি সাইকেল ও অটোরিকশার যন্ত্রাংশের দোকান দিয়েছেন পৌর এলাকার কাঁঠালতলা মোড়ে। গত ২০১৫ সালের দিকে তিনি একটি ১০০ সিসির সুজুকি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল কেনেন। কিন্তু মোটরসাইকেলটি পুরাতন হওয়ায় বারবার নষ্ট হতো। মোটরসাইকেলটিতে তেলও বেশি লাগতো।
এতে অত্যাধিক তেলের যোগান দিতে এবং বারবার নষ্ট মোটরসাইকেলটি মেরামত করতে করতে তিনি একেবারেই বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। শেষবারে মোটরসাইকেল নষ্ট হলে মেকানিক আর ভালো করতে পারছিলেন না।
পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন একেবারেই ফেলে দিয়ে তিনি তাতে ব্যাটারি লাগিয়ে চলাচল করবেন। এরপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু করে তিনি সফল হন। তার মোটরসাইকেলে ৪ টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারির সাথে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার মটরের সংযোগ স্থাপন করেন। এতে অনায়াসে তিনি এ মোটরসাইকেল চালাতে পারছেন।
সেই থেকেই তিনি তার নিজের তৈরি ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেলে চলাচল করছেন। এখন আর তাকে মোটরসাইকেলে তেল বা মবিল উঠানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় না। তার ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল এক চার্জেই ১৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করছে।
আরও পড়ুনআর একবার চার্জ দিতে তার মাত্র খরচ হয় ৫ থেকে ৬ টাকা। অপরদিকে এ ১৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে তার তেল কিনতে হতো প্রায় ৫০০ টাকার মতো। আনোয়ার হোসেন কান্টুর মোটরসাইকেল দেখে অনেকেই তাদের মোটরসাইকেলে ব্যাটারি সংযোগ করার পরিকল্পনা করছেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলটিতে যখন আমি ব্যাটারি লাগিয়েছিলাম তখন আমাকে দেখে অনেকেই হাসাহাসি করেছে এবং ঠাট্টা তামাশা করেছে। কিন্তু মানুষের কথায় কান না দিয়ে আমি এভাবেই চলাচল করে অনেক অর্থনৈতিক সাশ্রয় পেয়েছি। বর্তমানে তেল সংকটে এখন অনেকেই আমাকে বাহবা দিচ্ছেন।
এ গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপি তেল সংকট নিরসনে কান্টু ভাইয়ের ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল আমাদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তেল কিনতে আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা পাম্পে লাইন ধরে অনেক যুদ্ধ করে তেল কিনতে হয়। কিন্তু কান্টু ভাইয়ের সেটি করা লাগছে না।
তাছাড়া আমাদের যেখানে ১৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে, সেখানে কান্টু ভাইয়ের এ মোটরসাইকেলে খরচ মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকা। কান্টু ভাইয়ের মতো মোটরসাইকেলে ব্যাটারি লাগানোর চিন্তাভাবনা করছি আমিও।
মন্তব্য করুন

_medium_1776092031.jpg)


_medium_1776091172.jpg)



