ভিডিও রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৩ রাত

নীলফামারীর জলঢাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মিষ্টিভুট্টা চাষ

নীলফামারীর জলঢাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মিষ্টিভুট্টা চাষ

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় মিষ্টিভুট্টা (সুইট কর্ন) চাষে উন্মোচিত হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। স্বল্প সময়, কম খরচ এবং অধিক লাভের সুযোগ থাকায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ফসলের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মিষ্টিভুট্টা ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হতে পারে। উপজেলায় সুইট কর্ন চাষের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে স্পেন বাংলাদেশ এগ্রো লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নতমানের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা আগাম মূল্য নির্ধারণ ও পণ্যের বিক্রয় নিশ্চয়তা পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত মিষ্টিভুট্টা দেশে প্রক্রিয়াজাত করার পর স্পেন হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্টোবর মাসের মধ্যে বপন করা হলে একই জমিতে পরবর্তীতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব, যা জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে। স্থানীয় পর্যায়ে এই চাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত কৈমারী বালাপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ শাহিন আলম চৌধুরী। তার উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ একর জমিতে সুইট কর্ন চাষ শুরু হয়, যা বর্তমানে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

আরও পড়ুন

মাত্র ৮০-৯০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায় এবং বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা খরচে ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক মোঃ সুমন জানান, তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে মিষ্টিভুট্টা চাষ করে প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার উৎপাদন বিক্রি করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে কৃষকরা এ ভুট্টা চাষে যুক্ত হয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।

জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে উন্নত ফলন নিশ্চিত করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সুইট কর্ন সাধারণত ৮০-৯০ দিনের মধ্যে সংগ্রহযোগ্য, যেখানে প্রচলিত ভুট্টা উৎপাদনে সময় লাগে প্রায় ১৬০-১৮০ দিন।

এছাড়া বাজারমূল্য সাধারণ ভুট্টার তুলনায় ২-৩ গুণ বেশি হওয়ায় এটি এখন একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে জলঢাকায় মিষ্টি ভুট্টা চাষ ভবিষ্যতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে কৃষকেরা মনে করছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নীলফামারীর জলঢাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মিষ্টিভুট্টা চাষ

দেশে আর নতুন কোন ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়া হবেনা : অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দেবে গেছে ব্রিজের গার্ডার পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ

ঠাকুরগাঁওয়ে ৯৭ জনের হাম রোগের উপসর্গ শনাক্ত

বর্ষবরণে রঙ-তুলিতে সেজেছে সিরাজগঞ্জ কলেজ

চবিতে ১২ ফুট লম্বা আরেকটি বিষধর কিং কোবরা উদ্ধার