ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৪১ দুপুর

পুনঃপ্রচলন হচ্ছে ফ্যাসিস্ট আ.লীগের আগের আইন

অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল 

অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল, ছবি: সংগৃহীত।

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা পাস হয়। এর আগে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। এই বিলটি পাসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার আইন পুনঃপ্রচলন হচ্ছে।

বিলটি উত্থাপনের বিষয়ে আপত্তি তুলে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ যারা সরকারি বেঞ্চে রয়েছেন, তারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করতেন। এই অধ্যাদেশকে ল্যাপস করার মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়তো ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অবশ্যই পাস হবেই।এই সংসদে আজ আমরা যে পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, এই সংসদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সরকারি বেঞ্চে যারা উপস্থিত আছেন প্রত্যেকে এই সংসদে আসার পথে যে ক্রান্তিকালীন পর্যায় অতিক্রম করে এখানে এসেছেন, সেই পুরো যাত্রার পেছনে যে আইনটি জড়িত, তা নিয়ে আমি আপত্তি উত্থাপন করছি। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য দুই মিনিট সময় অপ্রতুল। সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশংসা বা অন্যান্য আলোচনায় অনেক সময় অপচয় হয়, কিন্তু জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় না। মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করবো এই সময়সীমা না রেখে সময় যেন বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজ যে আইনটি পাস করার কথা বলা হচ্ছে, তার মাধ্যমে ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশনকে পুনঃপ্রচলন করা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ২০০৯ সালের আইনটি গত ১৭ বছরে কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। এই কমিশনকে বিরোধী দল ও মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা মানবাধিকার কমিশন সৃষ্টি করেছে। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বলতে শুনেছি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গুলি করা মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে বৈধ। আমরা যদি আবার ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশনে ফিরে যাই এবং ২০২৫ সালের অধ্যাদেশকে ল্যাপস করে দিই, তাহলে আমরা যে অগ্রগতির পথে ছিলাম, সেখান থেকে জাতি আবার পিছিয়ে যাবে। এটি জাতির পিছিয়ে পড়ার একটি পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ হিসেবে এই সংসদে থাকবে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আদতে কোনো কার্যকর আইন নয়; এটি মূলত সরকারের আরেকটি দপ্তর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে স্পিকারের নেতৃত্বে যে নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারদলীয় এমপি এবং একজন সচিব থাকেন। ছয় সদস্যের এই বোর্ডের পাঁচজনই সরকারদলীয়।

হাসনাত বলেন, আমাদের এলজিআরডি মন্ত্রী (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) বলেছিলেন, এটি বিরোধী দল দমন কমিশন হিসেবে কাজ করে। যখন মানবাধিকার কমিশন বিরোধী দল ও মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে, তখন আমরা দেখি যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অধিকাংশ ঘটনাই সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে ঘটে। সেখানে বিডিআর, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা আমরা দেখেছি। তারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করতে হলে সেই বাহিনীর পূর্বানুমতি প্রয়োজন হয়। সরকারের পূর্বানুমতি নিয়েই সরকার যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে সেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে তা এই সংসদের প্রতিটি সদস্যই জানেন।

আরও পড়ুন

হাসনাত আবদুল্লাহকে দেওয়া ৪ মিনিট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি স্বচ্ছ রাজনীতি ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়া দরকার। জবাবে স্পিকার বলেন, আমরা অতীতে ৬টি সংসদ দেখেছি, যেখানে এ ধরনের বিষয়ে দুই মিনিট করে সময় দেওয়া হতো। যাহোক, আপনি (হাসনাত) আরও দুই মিনিট বলতে পারেন।

পরে হাসনাত বলেন, আজ যদি ২০২৪ সালের মে মাস হতো এবং এই বিলটি উত্থাপন করা হতো, তাহলে এই সংসদে এমন কোনো সদস্য থাকতেন না, যিনি এর বিরোধিতা করতেন। সবাই এটিকে সাদরে গ্রহণ করতেন। কিন্তু সময় পাল্টেছে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে আপনারা এই পাশে ছিলেন, আর আজ আপনারা সরকারি দলে গিয়েছেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছেন। আজ আপনারা এই বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। চব্বিশ সালের জুলাইয়ের কোনো এক সময়ে ফেব্রুয়ারি, জানুয়ারি বা মার্চে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সময়ে যদি ২০২৫ সালের এই অধ্যাদেশটি সংসদে তোলা হতো, সবাই চাইতেন এটি পাস হোক।

সময় পাল্টেছে, ঋতু পরিবর্তন হয়েছে, চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে, দিক পরিবর্তন হয়েছে। আজ আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, এবং আমাদের এই অবস্থান নৈতিকতার দিক থেকে একটি পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ হয়ে থাকবে। এই আইনটি শুধু মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; আরও দুটি অধ্যাদেশের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এগুলো হলো গুম অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান দায়মুক্তির অধ্যাদেশ।

২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ ল্যাপস করার মাধ্যমে বাকি দুটি অধ্যাদেশকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হবে। সরকার ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়তো ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অবশ্যই পাস হবেই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল 

বগুড়া ও শেরপুর উপ-নির্বাচনে জাল ভোট, এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের

পাঁচ বিভাগে কালবৈশাখি ঝড়ের পূর্বাভাস

ভারত থেকে আসবে ২০০ ব্রডগেজ কোচ: সংসদে রেলপথ মন্ত্রী

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের ইলেকশন দেখাতে চাই: সিইসি

৩ মাসেও শূন্য ইশতেহার বাস্তবায়ন, প্রশ্নের মুখে জকসু