জ্বালানি সংকট আতঙ্কে বগুড়ার ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইকারদের ভিড়
স্টাফ রিপোর্টার : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ সংকটের যে খবর ছড়িয়েছে, তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশের জনজীবনেও। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে। এই প্রবণতা দেশের বাজার ব্যবস্থাপনাকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গত কয়েক দিন ধরে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন গিয়ে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। সাধারণ মানুষ তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও একজনের জায়গায় দশজনের চাহিদা তৈরি হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া বা দেশজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী শাটডাউনের ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে বগুড়া শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বা আমদানিতে বাধার আশঙ্কায় মোটরসাইকেল ও গাড়ির চালকরা পাম্পে ভিড় করছেন। অনেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পাম্প গিয়ে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করছেন। এদিকে বগুড়ার অনেক এলাকার পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে তেল নেই সাইন বোর্ড ঝুলছে।
মোটর সাইকেল চালক, গাড়ি ও ট্রাক চালকরা পাম্পে এসে ঘুরে যাচ্ছেন। এর আবার উল্টো চিত্রও দেখা গেছে, শহরের আবার অন্য পাম্পগুলোতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করছে। গতকাল বেলা ১২টার সময় বগুড়া ফিলিং স্টেশন এ গিয়ে দেখা যায় অনেকেই তেলেল জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, আজকে তেল নেই। তেলের গাড়ি এলে তবে দিতে পারবো।
বগুড়া ফিলিং স্টেশনর সামনে মোটর বাইক নিয়ে পেট্রাল নিতে দাঁড়িয়ে আছেন প্রাইম ভার্সিটির শিক্ষার্থী ওয়াজেদ। তিনি নন্দীগ্রাম থেকে এসেছেন তেল নেয়ার জন্য। বললেন, অনেকগুলো তেলের পাম্প ঘুরেছেন তেল পাননি, মোটরসাইকেল রিজার্ভে চলছে। সেটাও শেষের পথে। এখন কী করবো? বগুড়া ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, তেল নেই সেটাও বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না মানুষ। ওয়াজেদের মত তেল কিনতে এসে তেল না কিনতে পেরে আবার অন্য পাম্পে রওনা হয়েছেন বকুল, পার্থ, সুমনসহ অনেকে।
আরও পড়ুনএব্যাপারে বগুড়া ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আতোয়ার হোসেন জানান, তেলের সরবরাহ থাকলেও সংকট আছে। আগে যেখানে তার স্টেশনে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন মিলে ৪৫ হাজার লিটার সরবরাহ আসতো। সেখানে এখন আসছে ডিজেল ২২ হাজার, পেট্রোল ৩ হাজার, অকটেন ৩ হাজার লিটার। এই অর্ধেক সরবরাহ দিয়ে কখনও দুই দিন চালাতে হচ্ছে। আবার কখনও তেল নেই সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তবে হঠাৎ করে আগের চেয়ে মানুষের মধ্যে জ্বালানি কেনা বেড়ে যাওযায় জন্য তেলের সংকট আরও বেশি মনে হচ্ছে।
একই কথা বললেন বগুড়া চারমাথা এলাকার মেহেরা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ। তিনি জানান, বাঘাবাড়ি থেকে তাদের তিন হাজার লিটার পেট্রোল এবং তিন হাজার লিটার অকটেন দিচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন তাদের প্রয়োজন সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল এবং সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। এদিকে তাদের গাড়ি বাঘাবাড়িতে গেলে কম জ্বালানি নিয়ে আসতে তাদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। সরকার ২০০ টাকার পেট্রোল কেনার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
এতে করে সারাদিন বাইকারদের সামাল দিতে দিতে পাম্পের কর্মচারীরা অসুস্থ পড়ছেন। তিনি জানান, অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনছে, যদি পরের দিন তেল আর না পান। এই আতঙ্ক থেকে প্রতিদিন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন মানুষ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অযথা গুজব ছড়িয়ে বা আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন

_medium_1775317322.jpg)

_medium_1775316405.jpg)


_medium_1775315993.jpg)

