ভিডিও শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৪১ দুপুর

বাড়ছে হাম রোগ: প্রতিরোধ করতে করণীয়

হাম রোগ যেন এক অদৃশ্য শত্রু, যা নিঃশব্দে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাইরে থেকে সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে বড় বিপদ। যদি সময়মতো সতর্ক না হওয়া যায় এই ছোট অসুখই বড় সংকটে পরিণত  হতে পারে। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একসময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কারণে এই রোগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু এখন বিভিন্ন কারণে আবার তা ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু বিভাগে হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি। চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি বা সময়মতো টিকা পায়নি, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক এলাকায় একসঙ্গে কয়েকজন শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে, যা এই রোগের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা নির্দেশ করে। গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব এবং শহরে অতিরিক্ত জনসমাগম দুই ক্ষেত্রেই সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

হাম রোগ বাড়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। টিকাদানে অবহেলা। অনেক অভিভাবক অসচেতনতা, ভয় বা ভুল ধারণার কারণে শিশুদের সময়মতো টিকা দেন না। ফলে শিশুরা সহজেই এই সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে।স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব। অনেকেই হামকে সাধারণ জ্বর বা ছোটখাটো অসুখ মনে করে গুরুত্ব দেয় না। এতে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় জটিলতা বাড়ে।জনসংখ্যার ঘনত্ব ও অতিরিক্ত ভিড়। স্কুল, বাজার বা গণপরিবহনের মতো জায়গায় বেশি ভিড় থাকার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা না রাখা,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা ইত্যাদি কারণে অন্যদের মধ্যেও রোগ ছড়িয়ে যায়। এই সব কারণ মিলিয়েই হাম রোগ আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগ হয়ে পড়েছে। হাম রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা। প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম টিকা দিতে হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। গণমাধ্যম, স্কুল ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে হাম রোগের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানাতে হবে।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত নেওয়া উচিত, যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগকে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা এবং প্রত্যন্ত এলাকাতেও তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে হাম রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। হাম রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি আমরা সবাই সচেতন হই। একটি ছোট অবহেলা বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিজের সন্তানসহ সমাজের সব শিশুর নিরাপত্তার জন্য টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধি মানা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই পারে এই রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে। 

আরও পড়ুন

লেখক :

ফারিহা জামান নাবিলা

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিশোধ নিতে আমরা বদ্ধপরিকর: মোজতবা খামেনি

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ে চীনা মুদ্রা নিচ্ছে ইরান

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু আজ

আজ ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

বিমানবন্দরে আটক উমরাহ ফেরত যাত্রী, ব্যাগে মিলল স্বর্ণ-ডলার

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাস হল ৩১টি বিল