পাবনা বেড়ার চরাঞ্চলের মানুষের জন্য বরাদ্দ ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন অচল
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় এক যুগ আগে সরকার একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স বা ওয়ান বেড ক্লিনিক বোট সরবরাহ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই অ্যাম্বুলেন্সটি কখনোই মানুষের কাজে আসেনি। চালু তো দূরের কথা, একদিনের জন্যও জলে নামতে দেখেনি চরাঞ্চলের মানুষ। বরং অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এটি নদীতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আছে দীর্ঘদিন।
বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা ও যমুনা নদীর চরাঞ্চল দিয়ে ঘেরা। এসব এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই নৌ-পথ নির্ভর। বর্ষা মৌসুমে অনেক গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে নৌকা বা ট্রলারের উপর নির্ভর করতে হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার নদীপথে রোগী পরিবহণের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেয়। পরিকল্পনা ছিল চরাঞ্চল থেকে দ্রুত রোগী এনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া।
বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজ করার লক্ষ্যে সরকারিভাবে একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়। প্রত্যন্ত নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের অসুস্থ মানুষকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা শহরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, শুরু থেকেই ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি কার্যত অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে পরিচালক (ভান্ডার ও সরবরাহ), কেন্দ্রীয় ঔষধাগার, ঢাকা কর্তৃক বরাদ্দকৃত ওয়ান বেড ক্লিনিক বোট বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু সে সময়ে হাসপাতালে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি রাখার ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নদীতে রেখে দেন।
২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আইয়ুব হোসেন জনস্বার্থে অ্যাম্বুলেন্সটি অন্য কোনো উপজেলায় স্থানান্তরের জন্য পরিচালক, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ এবং লাইন ডিরেক্টর (হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু তারপরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনচরনাগদাহর বাসিন্দা ইউছুব মোল্লা বলেন, সরকার যদি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু করত, তাহলে চরাঞ্চলের অনেক রোগীর জীবন বাঁচানো যেত। কিন্তু আমরা কোনো দিন এটাকে চলতে দেখিনি। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সাথে চরাঞ্চলের মানুষের কথা বিবেচনা করে নতুন করে ওয়াটার এম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকি থাকলে এখনো চরাঞ্চলের মানুষের জন্য নদীপথে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সেবা।
বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যেহেতু এটা ২০১৩ সালে এসেছে এবং কি কারণে দীর্ঘদিন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে। চরাঞ্চলের মানুষ যাতে জরুরি সময়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন

_medium_1775053365.jpg)

_medium_1775052467.jpg)

_medium_1775051463.jpg)


