ভিডিও শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২৭ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৩৬ দুপুর

একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান হলো। বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন মাহবুবা রহমান আর নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই কালজয়ী শিল্পী।

পঞ্চাশ থেকে সত্তরের দশকের রেডিও এবং চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নাম ছিলেন মাহবুবা রহমান। মূলত পল্লীগীতি ও আধুনিক গানে তার দখল ছিল ঈর্ষণীয়। ১৯৪৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র থেকে তার গানের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৫৬ সালে মুক্তি পাওয়া এদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তার গাওয়া ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

মাহবুবা রহমানের ব্যক্তিগত জীবন ছিল চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। ১৯৫০ সালে প্রথম বিয়ের পর বিচ্ছেদ এবং পরে ১৯৫৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও সঙ্গীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। এই সংগীত দম্পতির ঘরে জন্ম নেন বিশিষ্ট শিল্পী রুমানা ইসলামসহ তিন সন্তান। তার বড় ছেলে মারুফ আগেই মারা গেছেন এবং ছোট ছেলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

আরও পড়ুন

জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে তার গাওয়া ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ বা ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’ গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এছাড়া ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি।

বাংলা সংগীতে তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করেছিল। তার মৃত্যুতে সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই

খাগড়াছড়িতে ইপিডিএফ গণতান্ত্রিক নেতাকে গুলি করে হত্যা

কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে রোগীকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ

তসবিহ দানা গলায় আটকে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

ফরিদপুরে পাটের গুদামে আগুন

ঢাকা ও দিল্লির খোলামেলা আলোচনা দরকার: হাইকমিশনার