প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৪ দুপুর
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শীর্ষ পদে আলোচনায় বগুড়ার দুই ছাত্রনেতা
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শীর্ষ পদে আলোচনায় বগুড়ার দুই ছাত্রনেতা
ঢাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সংগঠনটির শীর্ষ পদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদে বগুড়ার দুই ছাত্রনেতার নাম আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আলোচনায় থাকা অন্যতম নাম জাহিদ হাসান শাকিল। তিনি বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তিনি সামনের সারিতে থেকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রতিবাদ করায় তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে এবং প্রায় ৬০ দিন কারাভোগ করতে হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আস্থাভাজন।
ছাত্র রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাহিদ হাসান শাকিল বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদলই সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের আদর্শকে ধারণ করেই কাজ করতে হবে। ঐক্য, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। পদ বড় নয় দায়িত্বই বড়।
অন্যদিকে একই পদে আলোচনায় রয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলার মাহমুদ ইসলাম কাজল। তিনি বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ঢাবির জিয়া হল ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন কাজল। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। ছাত্ররাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে তাকেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাহমুদ ইসলাম কাজল বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়া উচিত রাজপথে পরীক্ষিত, ছাত্রবান্ধব এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বের সমন্বয়ে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম, সচেতন ও মেধাবী তরুণ নেতৃত্বই আগামী দিনের ছাত্রদলকে এগিয়ে নেবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদের পর খুব শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক তৎপরতা ও যোগাযোগ শুরু হয়েছে, যা সংগঠনের ভেতরে নতুন করে প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক


_medium_1773757338.jpg)

_medium_1773755878.jpg)
_medium_1773748122.jpg)