ভিডিও মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৬ বিকাল

দক্ষ নারীর হাতেই তৈরি হয় শক্তিশালী অর্থনীতি

দক্ষ নারীর হাতেই তৈরি হয় শক্তিশালী অর্থনীতি

নিজের আলোয় ডেস্ক : বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারীর উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। কেউ কাজ করছেন পোশাক শিল্পে, কেউ আবার তথ্যপ্রযুক্তি বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে। তবে এখনো বহু নারী অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হতে পারছেন না, প্রধানত দক্ষতার অভাবে। বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রচলিত জ্ঞান নয়, সময়োপযোগী নতুন দক্ষতা অর্জনই এখন মূল চাবিকাঠি। বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কাজের ধরন বদলে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা বিশ্লেষণ কিংবা অনলাইন উদ্যোক্তা সবই আধুনিক পেশাজীবনের অংশ। তাই নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে, শিখতে হবে নতুন নতুন দক্ষতা।


ডিজিটাল সাক্ষরতা ঃ আজকের দিনে কম্পিউটার, ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন ব্যবহারে পারদর্শিতা ছাড়া কর্মজীবনে এগোনো কঠিন। ডিজিটাল সাক্ষরতা মানে শুধু ই-মেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া জানা নয়, বরং তথ্য খোঁজা, অনলাইন মিটিং পরিচালনা, ডকুমেন্ট তৈরি বা তথ্য সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন হওয়া। নারীরা যদি এই মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করেন, তাহলে ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন টিউশন বা ই-কমার্সে কাজ করতে পারবেন।


যোগাযোগ ও নেতৃত্বগুণ ঃ কর্মক্ষেত্রে দক্ষ যোগাযোগ দক্ষতা নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারা, টিমের সঙ্গে কাজ করা এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় রক্ষা করা এসবই পেশাগত উন্নতির জন্য জরুরি। একই সঙ্গে নেতৃত্বগুণ নারীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও দল পরিচালনায় সক্ষম করে তোলে। এটি শুধু কর্মস্থলে নয়, উদ্যোক্তা হিসেবেও সফলতার পথ তৈরি করে।


সৃজনশীল চিন্তা ঃ শ্রমবাজারে এমন কর্মীর চাহিদা বেশি, যারা শুধু কাজ করেন না, বরং নতুন সমাধান খোঁজেন। একজন নারী কর্মী যদি সৃজনশীলভাবে চিন্তা করতে পারেন এবং জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাহলে তিনি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন। আইটি ও প্রযুক্তি দক্ষতা ঃ ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিদিন বাড়ছে। নারী শ্রমশক্তির জন্য এটি বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র। মৌলিক কম্পিউটার জ্ঞান ছাড়াও গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা এন্ট্রি, ভিডিও এডিটিং কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা অর্জন করে তারা সহজেই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে যুক্ত হতে পারেন। এসব কাজে সময়ের স্বাধীনতা আছে, ঘরে বসেই আয় সম্ভব, যা অনেক নারীর জন্য আদর্শ পেশা হতে পারে।


উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা ঃ শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে অনেক নারী এখন ছোট ব্যবসা শুরু করছেন যেমন- হাতে তৈরি পণ্য বিক্রি, অনলাইন বুটিক, ঘরে তৈরি খাবারের ব্যবসা ইত্যাদি। সফল উদ্যোক্তা হতে হলে ব্যবসায় পরিকল্পনা, গ্রাহক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা শেখা জরুরি। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম নারীদের এসব দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করছে।

আরও পড়ুন


ভাষা ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা ঃ বাংলা ছাড়াও ইংরেজি বা অন্য কোনো বিদেশি ভাষায় পারদর্শিতা নারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করে। বিশেষ করে যারা আন্তর্জাতিক সংস্থা, কল সেন্টার বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করতে চান, তাদের জন্য ভাষা দক্ষতা অপরিহার্য। পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা, ধৈর্য ও সহানুভূতিশীল আচরণ কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।


সময়ের ব্যবস্থাপনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ঃ অনেক নারীকে পেশা ও পরিবার দুটোই সামলাতে হয়। তাই সময় ব্যবস্থাপনা শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করা, সময়মতো কাজ শেষ করা ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার মতো দক্ষতা একজন নারীকে আরও কার্যকর করে তোলে। মানসিক স্থিতিশীলতা ও

আত্মবিশ্বাস ঃ শ্রমবাজারে নারীদের অনেক সময় সামাজিক ও কাঠামোগত বাধার মুখোমুখি হতে হয়। আত্মবিশ্বাসী মনোভাব এবং মানসিক স্থিতিশীলতা সেই বাধা পেরোনোর শক্তি দেয়। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে শেখার মনোভাব রাখাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।

প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব ঃ বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা নারী উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। যেমন- আইসিটি ডিভিশনের ‘ঝযব চড়বিৎ’, নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ প্রকল্প অথবা বিভিন্ন অনলাইন কোর্স। এসব প্রশিক্ষণ শুধু দক্ষতা বাড়ায় না, বরং নারী কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এই নেটওয়ার্ক পেশাগত সুযোগ ও সহযোগিতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত নয়, জাতীয় উন্নয়নেরও অন্যতম চালিকা শক্তি। তাই প্রত্যেক নারী যদি নিজের সক্ষমতার জায়গা চিহ্নিত করে সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জন করেন, তবে তারা শুধু শ্রমবাজারেই নয়, সমাজেও নেতৃত্বের জায়গা দখল করতে পারবেন। পরিবর্তনের এই যুগে নারীর সামনে দরজা খোলা- প্রয়োজন শুধু সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং শেখার আগ্রহ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেন সবার মুখে মুখে ‘রাগ করলা?’ কে এই ভাইরাল ঈমান আলী?

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, দম্পতিসহ আটক ৩

বগুড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা শুরু

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে অরক্ষিত রেলক্রেসিং যেন মৃত্যুর ফাঁদ  

জুয়ার আগুনে পুড়ছে জীবন, কার্যকর উদ্যোগ শূন্য

শিক্ষকদের ঈদ বোনাস নিয়ে সুখবর