ভালুকায় বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ
ময়মনসিংহের ভালুকায় বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শেফার্ড গ্রুপ (জিন্স) লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন, ঈদ বোনাস এবং বাৎসরিক ছুটির টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। অথচ ১০ মার্চের মধ্যে এসব পাওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে আসেন। তাদের দাবি, এর আগেও বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে।
কারখানার সুইং সেকশনের কর্মী লিপি আক্তার বলেন, সামনে ঈদ। আমাদের কেনাকাটা করতে হবে, পরিবারের জন্য খরচ আছে। কিন্তু এখনও বেতন, ঈদ বোনাস কিংবা ছুটির টাকা দেওয়া হয়নি। কবে দেওয়া হবে, সেটাও কেউ পরিষ্কার করে বলছে না।
কাটিং সেকশনের কর্মী ফারুক জানান, প্রায় তিন বছর ধরে তারা এই কারখানায় কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কারখানায় বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে যদি শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন–বোনাস না দেওয়া হয়, তাহলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।
অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, ভালুকা থানা পুলিশ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হন।
শেফার্ড গ্রুপ (জিন্স) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকলেছুর রহমান জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আগামীকালের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
আরও পড়ুনইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, শেফার্ড জিন্সের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা এবং মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে বেতন পরিশোধের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা অবরোধ তুলে নেন।
লাঠিচার্জের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোজার দিনে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি যানজট তৈরি হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্স, বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অসুস্থ রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিকদের অনেক বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সে সময় দ্রুত বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা।
পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক



_medium_1773223562.jpg)

_medium_1773222571.jpg)


