নেপালে সরকার গঠনের পথে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দল
নেপালে ২০২৫ সালেরসেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর ভোট গণনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) পছন্দের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)।
নেপালে মোট ১৬৫টি আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচন হচ্ছে। প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র্যাপার বালেন্দ্র শাহ দল আরএসপি ৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলির দল ৮টিতে এগিয়ে রয়েছে । আর নেপালের সবচেয়ে পুরনো দল গগনা থাপার নেপালি কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯টি আসনে। এছাড়া নেপালের আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল এগিয়ে রয়েছে ৭টি আসনে।
প্রাথমিক ফলাফলে অনেকটাই নিশ্চিত যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে আরএসপি।
জেন-জি আন্দোলনের সময় কাঠমান্ডুর মেয়র ছিলেন বালেন্দ্র শাহ। প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন দিসি। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অঘোষিত নেতা ছিলেন এই র্যাপার। তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছিলেন নেপালের তরুণ প্রজন্মের সিংগভাগ।
আরও পড়ুনগত সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি অভ্যুত্থানের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ওলির সরকারের। তিন দিন পরে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। সেইমতো বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেপালে সাধারণ নির্বাচন হয়। লড়াইয়ে ছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল।
জেন-জি অভ্যুত্থানে নেপালে ওলি সরকারের পতনের পর অনেকেই এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রভাব খুঁজে পেয়েছিলেন। যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরে গণ-অভ্যুত্থানের জেরে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে নতুন দল গঠন করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পর দেখা যায়, সে দেশের মানুষ আস্থা রেখেছেন পুরোনো দল বিএনপিতেই। খুব একটা আশাপ্রদ ফল করতে পারেনি এনসিপি। কিন্তু নেপালের অবস্থা পুরো বিপরীত। প্রাথমিক গণনার পর দেখা যাচ্ছে, পুরনো কিংবা পরিচিত দলগুলোর উপরে নয়, বরং দেশটি আস্থা রাখছে তুলনামূলক নতুন দল ও নতুন নেতার উপরেই।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1772792244.jpg)

_medium_1772787223.jpg)

_medium_1772785688.jpg)


