দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার ইরানকে তাক করে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া টর্পেডোর আঘাতে প্রতিপক্ষের একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবার ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ সাগরে তলিয়ে যায়। পেন্টাগন ইতিমধ্যে এই হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় টর্পেডোর আঘাতে ইরানি যুদ্ধজাহাজটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযানকে ‘নীরব মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করেন। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ইরানি জাহাজটি ধ্বংস করতে ‘মার্ক-৪৮’ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে।
এটি সোনার প্রযুক্তির সাহায্যে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে জাহাজের তলদেশে আঘাত হানে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরণের মাধ্যমে জাহাজের মূল কাঠামো ভেঙে ফেলে।
আরও পড়ুনশ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন ক্রু অবস্থান করছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট জাপানের একটি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পর থেকে মার্কিন সাবমেরিনগুলো বিভিন্ন মিশনে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও জাহাজ ডোবানোর কাজে টর্পেডো ব্যবহারের ঘটনা আর ঘটেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে সাবমেরিন থেকে ‘টমাহক’ মিসাইল ব্যবহার করা হলেও টর্পেডোর এমন প্রয়োগ সামরিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেন্টাগনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সাগরে নিমজ্জিত হওয়ার আগে জাহাজটির সামনের অংশ খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠে আছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1772787223.jpg)

_medium_1772785688.jpg)
_medium_1772785142.jpg)



