লালমনিরহাটে ফলের বাজারে সিন্ডিকেট বাড়ছে দাম, ক্রেতাদের ক্ষোভ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: পবিত্র রমজান মাস শুরুর পর থেকেই লালমনিরহাটে ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সিন্ডিকেটের কারসাজি ও উচ্চ শুল্কহারের অজুহাতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে আপেল, আঙুর, মাল্টার মতো বিদেশি ফলগুলো। বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে ফলের বাজারকে উত্তপ্ত করে তুলছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে ফুটপাত ও ফলের দোকানগুলোতে বাহারি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আকাশচুম্বী দামে হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। বর্তমানে আপেল ২শ’ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ থেকে ৪শ’ টাকা, মাল্টা ২শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, আঙুর ২৫০ টাকা থেকে লাফিয়ে ৪৫০ থেকে ৫শ’ টাকা, কমলা ২শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেয়ারা, বরই ও কলার মতো দেশি ফলগুলোর দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ফলকে ‘বিলাসবহুল’ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় কেজিতে প্রায় ১৩০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট মিশন মোড়ের ফল ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রতি কেজি ফলে মাত্র ৬ টাকা শুল্ক নেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দিতে হচ্ছে ১৩০ টাকা। এতেই ফলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত দামের কারণে ক্রেতাও কমে গেছে। যা ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও অনেক বিক্রেতা আড়তদারদের সিন্ডিকেটকেও দায়ি করছেন। তাদের অভিযোগ, রমজান ঘিরে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছে। ফলে বেশি দামে ফল কিনে বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
আরও পড়ুনদামের এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশাহারা বলে জানান ফল কিনতে আসা রফিক, আমজাদ ও শাম্মিসহ অনেকেই। রবীন নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ট্যাক্স বা শুল্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেত। রেখা আক্তার নামে আরেক ক্রেতা বলেন, রমজানে এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির হয়ে পড়েছে।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, লালমনিরহাটের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করছি। ফল কেনা-বেচায় রশিদে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে অথবা কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক



_medium_1772719651.jpg)


