নওগাঁর রাণীনগরে আলুর দামে কপাল পুড়ছে চাষির
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নওগাঁর রাণীনগরে ধান চাষের পাশাপাশি সবজি উৎপাদনেও মোটামুটি পরিচিত। গত বছর আলু চাষ করে লোকসান গুনলেও এবার ভালো দাম পাবেন এমন আশা নিয়ে আলু চাষ করেছিলো চাষিরা। আলু তোলার মৌসুমের শুরুতেই জাতভেদে বাজারে আলুর দরপতনে রাণীনগরে আলু চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বাজার দর কম, আর শ্রমিক সংকটের কারণে জমিতে উৎপাদিত আলু উঠাতে উৎসাহ হারাতে বসেছে তারা। চলতি মৌসুমে আলু চাষের উপযোগী আবহাওয়া থাকায় ফলন ভালো হলেও দরপতনের কারণে কপাল পুড়ছে চাষিদের।
গত বুধবার উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট আবাদপুকুর গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। এই হাটে প্রতিমন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা থেকে শুরু করে আকারভেদে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। এতে করে কৃষকদের লাভের আশা তো দূরের কথা গত বছরের লোকসান সামাল দিতে পারবে না তারা।
এই এলাকায় ফেব্রুয়ারি মাস থেকে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আলু তোলার ধুম পড়েছে। চাষিরা বলছেন, দিন যতই যাচ্ছে, বাজারে আলুর দাম ততই কমছে। হিমাগারগুলোতে গতবারের আলু এখনও মজুদ থাকায় নতুন আলু নেওয়া তেমন হচ্ছে না। ফলে কৃষকরা আলু সংরক্ষণ করতে গিয়েও বিপাকে পরছে। বর্তমান বাজার অনুযায়ী আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে চাষিদের।
জানা গেছে, উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে এবছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো প্রায় ১২শ’ হেক্টর। কিন্তু গতবছরে চাষিদের লোকসানের কারণে আলু চাষিরা আগ্রহ কমে দিলেও চাষ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৮৮৫ মেট্রিকটন। কৃষি অফিস বলছে, আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আলু চাষের প্রতি মনোযাগ সরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা।
আরও পড়ুনউপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহিদুল রহমান জানান, আলু চাষ করে কৃষকেরা গতবছর থেকে লস খাচ্ছে। এবারও বাজারে যে পরিস্থিতি দেখছি মৌসুমের শুরুতেই আলু চাষিরা ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না। ফলে আলু চাষের বিমুখ হয়ে উঠছে চাষিরা। যার প্রভাব পড়তে পারে কৃষিতে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক


_medium_1772716794.jpg)
_medium_1772716460.jpg)
_medium_1772716004.jpg)



