জয়পুরহাটে দাম না পেয়ে দিশেহারা হলুদ চাষিরা
জয়পুরহাট প্রতিনিধি : উত্তরবঙ্গের কাঁচা হলুদের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ হাট। সপ্তাহে দুই দিন বসা এই হাটে বর্তমানে কাঁচা হলুদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও চাষিদের চোখেমুখে নেই আনন্দের ঝিলিক। জেলায় এবার হলুদের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দামের ধ্বসে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা প্রতি হাটে ১০ থেকে ৩০ ট্রাক কাঁচা হলুদ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই হলুদ ঢাকা, চট্টগ্রাম, পাবনা, দাশুড়িয়া ও রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে গত মৌসুমের তুলনায় এবার মণে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কম দামে হলুদ বিক্রি হচ্ছে। গত মৌসুমে যে কাঁচা হলুদ প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, এবার তা ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাধারণ মানের হলুদ বিক্রি হচ্ছে ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ টাকায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২৮০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন ৫ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনহাটে ৫ মণ হলুদ নিয়ে আসা কৃষক রহমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার, কীটনাশক আর শ্রমিকের যে হারে দাম বাড়ছে তাতে ১৪শ’ টাকায় হলুদ বিক্রি করলে লোকসান হবে। গত বছর ২ হাজার টাকা বিক্রয় করা হয়েছিল, এবার দাম নাই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, ভারতের হলুদ আসার কারণে দেশি হলুদের বাজার কম। এখানকার হলুদের মান খুব ভালো, সারা দেশে এর চাহিদাও আছে। কিন্তু আমদানির চাপে ভালো মানের হলুদও দেড় হাজার টাকার ওপরে উঠছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাটের মাটি হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। হলুদের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর আলাদা চাহিদা আছে। কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হবে।
মন্তব্য করুন


_medium_1772464178.jpg)




