বগুড়ায় যে কারনে হাফেজ সাইফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়, ২ জন গ্রেফতার, একজনের স্বীকারোক্তি
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম (৪৫) হত্যা মামলার ১ নং আসামি ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২) এবং ৩নং আসামি বেবী খাতুন (৫২)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব-১২ বগুড়ার সদস্যরা হত্যাকান্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদেরকে গ্রেফতার করে। তারা সম্পর্কে মা ও ছেলে।
নিহত সাইফুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর শহর শাখার ওলামা বিভাগের দায়িত্বশীল নেতা। তিনি মসজিদের খতিব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসাও করতেন। এদিকে, এ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আসামি বিক্রম। প্রদত্ত জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করেছে জায়গা নিয়ে বিরোধের জের হিসাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার ১ নং আসামি বিক্রম গ্রেফতার এড়াতে ধুনট উপজেলার মোহনপুর উত্তরপাড়া এলাকায় আত্মগোপন করে আছে, এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১২, অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় গত ২ মার্চ রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব -১২ এর একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ওই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ১নং আসামি ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২)কে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত বিক্রম শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়ার মো. হযরত আলীর ছেলে। এরপর বিক্রমের দেয়া তথ্যমতে ধুনট উপজেলার মোহনপুর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১টি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। এরপর একইদিন ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় র্যাবের আরেকটি দল অভিযান পরিচালনা করে ওই হত্যা মামলার ৩নং আসামি বেবী খাতুন (৫২)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ওসি মো: মুনিরুল ইসলাম জানান, আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সদর আদালতে তোলার পর আসামি বিক্রম হাফেজ সাইফুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট কামাল হোসেনের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, বিচারক তার দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আসামি বিক্রম হাফেজ সাইফুল ইসলামকে খুন করে বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, র্যাব সূত্র আরো জানায়, এর আগে গত ১ মার্চ শহরের খান্দার এলাকার মৃত. নওশের আলী হাফেজ মওলানা সাইফুল ইসলাম(৪৫) চারজন রাজমিস্ত্রি নিয়ে ঠনঠনিয়া মৌজার মাহবুব নগরে শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন তার কেনা জমিতে সীমানা প্রাচীর দিচ্ছিলেন। তখন আসামি পক্ষ ঘটনাস্থলে এসে সীমানা প্রাচীর দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে এবং সীমানা প্রাচীর তৈরির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলে।
এ নিয়ে দুই পক্ষের বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আসামিরা হাফেজ সাইফুল ইসলামের উপর অতর্কিত হামলা করে এবং গ্রেফতারকৃত ১নং আসামি ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২) কোমর থেকে চাকু বের করে হাফেজ মওলানা সাইফুল ইসলাম এর তলপেটে আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে। এরপর আসামিরা তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাংচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষনিকভাবে আহত সাইফুল আসলামকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা গ্রহনকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ঢাকায় রেফার করেন। কিন্তু পথিমধ্যে গত ১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান তিনি। পরবর্তীতে এ হত্যার ঘটনায় নিহতের দুলাভাই মো. আলী আজম (৪৫) সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন









