নরপশু ধর্ষকদের জনসম্মুখে ফাঁসি চাই
দেশে প্রতিনিয়ত উদ্বেগজনক হারে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রায়ই চোখে পড়ছে একের পর এক ধর্ষণের সংবাদ। ফলে দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি কর্মক্ষেত্রেও নারীদের নিরাপত্তা আজ বড় প্রশ্নের মুখে।
বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হলেও এই ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত অপরাধ কমার বদলে ক্রমশ বাড়ছেই। এর প্রধান কারণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতা। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী ও তার পরিবার আইনের সুরক্ষা পাওয়ার পরিবর্তে নানা ধরনের হয়রানি, সামাজিক চাপ ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়। অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে ভুক্তভোগীকে সম্মুখীন হতে হয় অস্বস্তিকর প্রশ্ন, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং নানা হয়রানির। ফলে হাজার হাজার ধর্ষণের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল অপরাধও অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ও তথাকথিত নেতাদের মাধ্যমে সালিশ বা আপসের নামে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লোকলজ্জার ভয়েও অনেক পরিবার নীরব থাকতে বাধ্য হয়। এই সব অনিয়ম ও অপরাধ চাপা দেওয়ার পেছনে প্রশাসনের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। সঠিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত এ ধরনের নোংরা অপরাধ বাড়ছে। প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভীকভাবে আইনগত সহায়তা প্রদান করা। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও যেন ক্রমেই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ধর্ষণের বিচার বা তথাকথিত মধ্যস্থতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় বিপথগামী ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নারীদের প্রতি হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের ঘটনাগুলো কঠোরভাবে দমন করতে হবে। আরেকটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো তথাকথিত প্রেমের ফাঁদে পড়ে আজ অনেক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোনে এবং মিথ্যা ভালোবাসার আশ্বাস ব্যবহার করে এক শ্রেণির অপরাধী কৌশলে কিশোরীদের বিশ্বাস অর্জন করে এই ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত অপরাধ সংঘটিত করছে। অনাকাক্সিক্ষত ও ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকেই কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। আইনি অধিকার এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।
দল-মত, ক্ষমতা কিংবা পরিচয় যাই হোক না কেন ধর্ষকের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত সে একজন ধর্ষক। অপরাধী যে দলেরই হোক বা যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। দায়িত্বশীলদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষণ মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জনসম্মুখে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এই ঘৃণিত অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
লেখক :
মোহাম্মদ নাছাত
শিক্ষার্থী, আল ফিকহ এন্ড ল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








