ইরানের কাছে আরও যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের বড় ধরনের মোতায়েন স্যাটেলাইট চিত্রে শনাক্ত হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাই জানায়, স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সামরিক কর্মসূচি ও সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমন নিয়ে দেশটির ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় আনতে চায়। স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ‘আব্রাহাম লিংকন’ বর্তমানে ওমান উপকূলের কাছে অবস্থান করছে, যা ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে। নিউক্লিয়ার শক্তিচালিত এই বিমানবাহী রণতরীটি তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এতে রয়েছে প্রায় ৯০টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে এফ-৩৫ ফাইটার জেটও রয়েছে এবং এতে কর্মরত নাবিক ও ক্রুর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৮০ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারির শেষ দিকে এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হলেও এতদিন স্যাটেলাইটে ধরা পড়েনি। খোলা সমুদ্রে চলাচলের সময় স্যাটেলাইট কভারেজ সীমিত থাকায় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে রণতরীটি। বিবিসি ভেরিফাই জানায়, স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ১২টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আব্রাহাম লিংকন’সহ তিনটি আর্লি বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম আরও দুটি ডেস্ট্রয়ার এবং উপকূলবর্তী যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তিনটি বিশেষায়িত জাহাজ। এগুলো বর্তমানে বাহরাইনের নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছে। এছাড়া পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সৌদা উপসাগরের কাছে দুটি ডেস্ট্রয়ার এবং লোহিত সাগরে আরও একটি ডেস্ট্রয়ার দেখা গেছে।
আরও পড়ুনআকাশপথেও বেড়েছে মার্কিন তৎপরতা। জর্ডানের মুয়াফ্ফাক সালতি সামরিক ঘাঁটিতে এফ-১৫ ও ইএ-১৮ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে কার্গো বিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী এবং যোগাযোগবিষয়ক উড়োজাহাজ চলাচলও বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জবাবে ইরানও শক্তি প্রদর্শন করেছে। সোমবার ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালী এলাকায় একটি সামুদ্রিক মহড়া চালায়। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, মহড়ার সময় আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নৌযান পরিদর্শন করেন এবং একটি জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক








