বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন, নির্বাচন প্রস্তুতি
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সেনা সদস্যরা যমুনা নদীর চর পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন। সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আশা করছেন চরবাসী। চরাঞ্চলের মানুষরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার জন্য সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ বেশকিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এছাড়া সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুর্গম চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রের এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এবার চরাঞ্চলে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর একটি স্থাপন করা হয়েছে কাজলা ইউনিয়নের কটাপুর বাজার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদে।
অপরটি কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বৃহস্পতিবার নৌকা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ঘোড়ার গাড়ি, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসে সেনা সদস্যরা চরাঞ্চলের এসব ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন। উপজেলার সেনা ক্যাম্পের তথ্য অনুযায়ী দুইটি ক্যাম্পে সর্বমোট ৩ প্লাটুন সেনা অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কাজলায় রয়েছেন ২ প্লাটুন এবং ডাকাতমারা রয়েছেন ১ প্লাটুন সেনা সদস্য। দুটি ক্যাম্পেই বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তারাও অবস্থান নিয়েছেন।
বগুড়া-১ আসনের দুটি উপজেলার মধ্যে সারিয়াকান্দি দুর্গম চরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ নদীগর্ভে এবং ৫টি ইউনিয়নের আংশিক নদীগর্ভে অবস্থিত। তাই এসব ইউনিয়নের ১৯টি ভোটকেন্দ্র চরাঞ্চলে অবস্থিত।
এসব ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যমে নৌকা। কিন্তু যমুনা নদীতে প্রচন্ড নাব্যতা সংকট বিরাজমান থাকায় এসব ভোটকেন্দ্রে নৌকা চলাচল করছে না এবং দ্রুত যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থাও নেই। ভোটকেন্দ্রে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সেখানে পায়ে হেঁটে বা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাই ১৯টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনকর্ণিবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন দিপন বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে এর আগে কখনো চরাঞ্চলে কোনও সেনা ক্যাম্প স্থাপন হয়নি। এবারের প্রথম হয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হরহামেশাই ঘটত। এবার সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করায় চরের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন এবং ভোটের কাঙ্খিত ফলাফলও তারা আশা করছেন। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন পিপিএম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু উৎসবমুখর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার জন্য সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ বেশকিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে।
সেখানে প্রশাসনেরও বেশকিছু কর্মকর্তা কাজ করবেন। এবারের নির্বাচনে বেশকিছু আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র সি সি টিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুলিশের শরীরে বডি অন ক্যামেরা একটি নির্বাচনে একটি নতুন সংযোজন।
মন্তব্য করুন







