ভিডিও শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৫৮ রাত

দিনাজপুর-৬ আসনে প্রধান দুই দলকে নিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে ভোটারদের ভাবনা

দিনাজপুর-৬ আসনে প্রধান দুই দলকে নিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে ভোটারদের ভাবনা। ছবি : দৈনিক করতোয়া

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-৬ আসন (ঘোড়াঘাট-নবাবগঞ্জ-বিরামপুর-হাকিমপুর) এলাকায় ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা ও কৌতুহল বাড়ছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা, ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে যেমন সরব জনপদ, তেমনি নির্বাচন শেষে এসব অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন ও সংশয়।

ভোটারদের মধ্যে যেমন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের আশা রয়েছে, তেমনি অতীত অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়েও সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনমতের উত্তাপ বাড়লেও নির্বাচনের পরে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হবে দিনাজপুর-৬’র ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা।

উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর এই আসনে ভোটারদের মূল ভাবনায় রয়েছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো। স্থানীয়দের মতে, দলীয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার সংকটই বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকদের সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলের সমর্থকদের মতে, বর্তমান সংকট উত্তরণে এসব অঙ্গীকার ভোটারদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে। এতে একাংশ ভোটার ইতিবাচক হলেও অন্য অংশের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে।

আরও পড়ুন

দিনাজপুর-৬’র কৃষিজীবী ভোটাররা মনে করেন, এই আসনের বড় অংশের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, সার-বীজের দাম এবং সেচ সুবিধা ভোটারদের অন্যতম দাবি। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোটাররা বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম দিনদিন বাড়ছে। নির্বাচনের সময় সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু পরে মানুষকে আর খোঁজ নেয় না। তবে এই আসনের তরুণ  ভোটারেরা বলেন, আমরা চাকরির সুযোগ চাই। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব পরিকল্পনা দরকার।

এই আসনের প্রগতিশীল ও প্রবীণ ভোটাররা মনে করেন, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থাই হতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্যে সব চেয়ে নিরাপদ। অতীতে বিভিন্ন দল ক্ষমতায় থেকেও সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। ফলে এবার মানুষ শুধু স্লোগান নয়, বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা খুঁজছে।

উল্লেখ্য, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ এ ধানের শীষের প্রতীকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আনোয়ারুল ইসলাম ভোটের মাঠে লড়ছেন।

এছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয়পার্টি থেকে লাঙল প্রতীকে রেজাউল হক, বাসদ থেকে মই প্রতীকে আব্দুল হাকিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে আব্দল্লাহ্ ও ঘোড়া প্রতীকে শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র হাতপাখা প্রতীকে নুর আলম ছিদ্দিক। স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে লড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে সভামঞ্চে তারেক রহমান

দিনাজপুর-৬ আসনে প্রধান দুই দলকে নিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে ভোটারদের ভাবনা

বগুড়ার কাহালুতে ভলিবল টুর্নামেন্টে শেরপুর গুড মর্নিং ভলিবল ক্লাব চ্যাম্পিয়ন

তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান আবু সাঈদের বাবা

বগুড়ায় জনস্রোতে অর্ধ শতাধিক মোবাইল ফোন খোয়া যাওয়ার ঘটনায় থানায় ৫০ জিডি

বগুড়ার ধুনটে বরই খাওয়ানোর কথা বলে শিশুকে ধর্ষণ