ভিডিও বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৮ বিকাল

ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানে জীবনের লড়াই

ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানে জীবনের লড়াই। ছবি : দৈনিক করতোয়া

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানই জীবনের একমাত্র অবলম্বন চল্লিশোর্ধ্ব সাথী খাতুনের। নন্দীগ্রাম উপজেলার কলেজপাড়ার স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী কয়েক বছর ধরে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। দারিদ্র্য, একাকিত্ব ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মাঝেও কখনো কারও কাছে সাহায্যের হাত বাড়াননি তিনি।

বাইশ বছর আগে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল গ্রামের আমির আলীর মেয়ে সাথী খাতুনের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের ধুন্দার গ্রামের বাবু হোসেনের সঙ্গে। শুরুতে সুখেই চলছিল সংসার। অভাব-অনটনের কারণে প্রায়ই তাদের দাম্পত্য কলহ লেগে থাকতো। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে বাবু হোসেন তাকে তালাক দেন।

এরপর থেকে সংসারের সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সাথী। তালাকের পর নিজের জমানো টাকা দিয়ে একটি পুরাতন সেলাই মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি পিঠার দোকান চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চলছিল। হঠাৎই তার সেলাই মেশিন চুরি হয়ে যায়। এতে আয়ের বড় একটি পথ বন্ধ হয়ে যায়। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন তিনি। অভাবের কারণে পড়াশোনার খরচ চালাতে না পেরে কাজের সন্ধানে ছেলেকে ঢাকায় পাঠান।

সেখানে গিয়ে ছেলে বিয়ে করার পর মাকে জানিয়ে দেয়, সে আর কোনো খরচ দিতে পারবে না। ফলে আবারও সমস্যায় পড়েন সাথী। এরপর থেকে তিনি একাই দিনরাত পরিশ্রম করা শুরু করেন। বর্তমানে তার মেয়ে নার্গিস আক্তার নন্দীগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সে মায়ের কাজে সহায়তা করে। ছোট্ট শিশু নার্গিস জানায়, সে সকালে স্কুলে যায়, বিকেলে মায়ের সঙ্গে পিঠার দোকানে পিঠা তৈরিতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

সাথী খাতুন জানান, বছরে প্রায় তিন মাস তিনি পিঠার দোকান করেন। এখান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। পাশাপাশি একটি বাসায় সিঁড়ি পরিষ্কারের কাজ করে মাসে ৫০০ টাকা পান। কেউ কেউ অর্ডার দিলে বাসা থেকে পিঠা তৈরি করে সরবরাহ করেন। সব মিলিয়ে তার মাসিক আয় গড়ে ৯ হাজার টাকা। এই আয়ের মধ্যেই বাসা ভাড়া, খাবার, মেয়ের পড়াশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হয়।

ফলে মাস শেষে ঘাটতি থেকেই যায়। তিনি বলেন, অনেকে আজেবাজে কথা বলে। কিন্তু আমি সেদিকে কান না দিয়ে নিজেই পরিশ্রমে সংসার চালাই। তিনি বলেন, এ অবস্থায় সরকারি কোনো সহায়তা পেলে অনেক উপকার হতো।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অপমানিত বোধ করায় অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যুবরাজ

ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানে জীবনের লড়াই

সরকারি কর্মকর্তাদের গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ ইসির

রুমিন ফারহানার প্রচারে অংশ নেওয়ায় সরাইলে বিএনপির কমিটি স্থগিত

প্রযোজনায় অভিনেত্রী পুতুল

অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে খেলবে বগুড়ার সোনাতলার মিরা