ভিডিও বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৯ বিকাল

বগুড়ার ধুনটে যমুনার চরে বিনাচাষে পেঁয়াজ আবাদ, দিন বদলের স্বপ্ন কৃষকের

বগুড়ার ধুনটে যমুনার চরে বিনাচাষে পেঁয়াজ আবাদ, দিন বদলের স্বপ্ন কৃষকের। ছবি : দৈনিক করতোয়া

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙনে নি:স্ব হাজার হাজার মানুষ। প্রকৃতির ভাঙা-গড়ার খেলায় পড়ে এসব মানুষের ঠাঁই হয়েছে যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধেই। যমুনার ভাঙনে বসতি হারানো এসব কৃষকেরা জেগে ওঠা চরে অন্যান্য ফসলের পাশাপশি এবার বিনাচাষে পেঁয়াজের আবাদ করে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে বহমান যমুনা নদীর পূর্ব পাশে রয়েছে অসংখ্য চর।  গত নভেম্বর থেকে যমুনা নদীতে পানি কমে গিয়ে জেগে উঠেছে এসব চর। স্থানীয় কৃষকেরা এসব বালুচরের জায়গা নিজেদের দখলে নিয়ে অন্য ফসলের পাশাপাশি রোপণ করেন পেঁয়াজের চারা। পেঁয়াজ চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।

এক বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মণ পেঁয়াজ হবে। বাজারদর ভালো পাওয়া পেলে খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হবে তাদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনা নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। অনেক স্থান দিয়ে হেঁটে নদী পার হয়ে কৃষক-কৃষাণীরা যাচ্ছেন চরে রোপণ করা পেঁয়াজের জমিতে। চর এলাকা ছেয়ে গেছে সবুজ পেঁয়াজ গাছে।

এ সময় কয়েকজন কৃষক বলেন, আগে সারা বছর যমুনা নদীতে পানিপ্রবাহ থাকত। তাই নদী পারাপারে সমস্যা ছিল। এবার নদীতে পানি নেই। জেগেছে ধু ধু চর। তাই তীরবর্তী ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষিরা এসব চর দখলে নিয়ে ঝুঁকেছেন চাষাবাদে। অন্য ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষ করছেন তারা।

আরও পড়ুন

পেঁয়াজচাষি পুকুরিয়া গ্রামের জেন্দার আলী জানান, তার জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তিনি চাষাবাদ করেন। বর্তমানে যমুনার চরে ৩০ শতক জমিতে অন্য ফসলের সঙ্গে পেঁয়াজ চাষ করেছেন তিনি। হেঁটে নদী পারাপারে সুবিধা হওয়ায় পরিবারের অন্য সদস্যরা এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন। ভুতবাড়ি গ্রামের চাষি কায়কোবাদ জানান, ভরা বর্ষায় পলিমাটিতে তৈরি এ জমি।

এই পলি পেঁয়াজখেতের জন্য উপযোগী। পেঁয়াজ চাষে পলিযুক্ত জমিতে সার বেশি লাগে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশাও করছেন। ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, যমুনা পাড়ের ২০ জন কৃষককে পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। এবার যমুনার চরে প্রায় ৪৫ হেক্টর থেকে বেড়ে ৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। বাজারদর ভালো পেলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রেড চিটাগাং গরুর জাত সংরক্ষণ জরুরি: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার  

প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরে নামাজ শুদ্ধ হবে কি?

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি

মানবিক বিবেচনায় কারামুক্ত সাদ্দাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে নারীসহ আটক ৭

বগুড়ার ধুনটে যমুনার চরে বিনাচাষে পেঁয়াজ আবাদ, দিন বদলের স্বপ্ন কৃষকের