ভিডিও মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:১৭ রাত

বগুড়া-২ আসনের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিএনপি’র প্রার্থী নানা ষড়যন্ত্র করেন : সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না

বগুড়া-২ আসনের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিএনপি’র প্রার্থী নানা ষড়যন্ত্র করেন : সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না

স্টাফ রিপোর্টার : নাগরিক ঐক্য’র সভাপতি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, তিনি যাতে বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে না পারেন, এজন্য এই আসনের বিএনপি’র প্রার্থী শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

বিএনপি বা জোটের প্রার্থী হিসেবে তাকে চূড়ান্ত করার পরেও বিএনপি পরে তাদের দলীয় প্রার্থী দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রার্থীর লোকজন তার কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে না।

তিনি আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন। এসময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি কখনো ঋণখেলাপি ছিলেন না। তার একটি ব্যবসা ছিল কিন্তু স্বৈরচারী শাসনের কারণে ব্যবসাটি তিনি করতে পারেননি, ব্যবসাটি যার হাতে ছিল ওই ব্যক্তি অনেক টাকা ঋণ করেন। তিনি জেলে থাকার কারণে তার ব্যবসাটি হাতছাড়া হয়ে যায়।

৫ আগস্টের পর এলাকায় এই ব্যবসা পরিচালনা করে অনেক টাকা ঋণ পরিশোধ করেন। ব্যাংকের সাথে লেনদেন ভালো থাকায় ব্যাংকের হেড অফিস তার ঋণ পুনঃতফশিল করার প্রক্রিয়া শুরু করে, অথচ ব্যাংকের বগুড়া শাখা থেকে তার নামে ঋণ পরিশোধের আল্টিমেটাম দিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয় এবং মামলার কথা বলা হয়। অথচ ব্যাংকের হেড অফিসে ওই চিঠির কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি তখন বুঝতে পারেন তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।

মান্না বলেন, তিনি নোটিশ পাওয়ার আগেই মিডিয়াতে নিউজ হয়ে যায়। তিনি বিষয়টি ব্যাংকে বলার পর ব্যাংকের ওই শাখা ম্যানেজারকে শাস্তি হিসেবে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়। এরপরেও ব্যাংকের শাখা থেকে তাকে ক্লিয়ারেন্স চিঠি না দেওয়ায় তাকে কোর্টে যেতে হয়েছে। এই সুযোগে জোটের প্রার্থী হিসেবে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপি তাদের দলীয় লোককে প্রার্থীকে হিসেবে চিঠি দেয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যে কাগজপত্রে ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়, সেই একই কাগজপত্রে এই আসনে তা অবৈধ হয় কীভাবে?

আরও পড়ুন

তিনি অভিযোগ করা বলেন, এই আসনে তার পক্ষে যারা কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভয়সহ বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর শিবগঞ্জ থানায় বিরাট মামলা বাণিজ্য হয়েছে। একই রাজনৈতিক দল করে অথচ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। সকালে মামলা দিয়ে আবার তা বিকেলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এখনও মামলা বাণিজ্য ও মামলা ভীতি চলছে।

এখনতো এগুলো চলার কথা না? অথচ শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার নারী কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি মাইকে বক্তব্য দিয়ে নাম ধরে ধরে ভয় দেখানো হয়েছে এবং মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে। এসব ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ ব্যবাসয়ীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি সুষ্ঠু ভোটের আশা করে বলেন, এই নির্বাচনে অনেক কিছু ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। মানুষ যাতে তার ভোট দিতে পারে এবং সেই রায় যেন ঠিকমত প্রকাশিত হয়, এটাই গণতন্ত্র। পুরো সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্দিষ্ট কোন দলের নাম না বললেও সাংবাদিকে প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে তিনি বলেন, ‘নাম বলতে আমার তেমন কোন অসুবিধা আছে তাও না, ভয় হচ্ছে অনেক দিনের বন্ধুত্ব ভেঙে যাচ্ছে, এই ভয় পাই। আমাকে ডিসকোয়ালিফাই থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত  যা হয়েছে তা বিএনপি’র প্রার্থী করেছেন। আমাকে বিএনপি’র প্রার্থী ঘোষণা করেও পরে তারা তাদের প্রার্থী দিয়েছে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্য’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া জেলা সমন্বয়ক রাজিয়া সুলতানা ইভা, সাইদুর রহমান সাগর, জেলা সদস্য মশিউর রহমান পিয়াল, শিবগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সরকার, সদস্য শাহিনুর আলম টিটু প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়া-২ আসনের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিএনপি’র প্রার্থী নানা ষড়যন্ত্র করেন : সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না

এই সময়ে হৈমন্তী রক্ষিত

বগুড়ায় ১৬টি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার আটক

ধানের শীষ গণমানুষের ভাগ্য উন্নয়নের প্রতীক: শামা ওবায়েদ

নতুন প্রজন্মের সুস্থ মানসিকতা, লেখাপড়া, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম প্রয়োজন : বগুড়ার জেলা প্রশাসক

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সোয়া ৪ লাখ প্রবাসী