সবুজ পরিবার, সজীব খাবার
সবুজ পরিবার বলতে মূলত কৃষি সচেতন পরিবার এবং সজীব খাবার বলতে নিরাপদ, তাজা ও পুষ্টিকর খাবারকে বোঝানো হয়। সুন্দর জীবন এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য সবুজ পরিবার, সজীব খাবারের বিকল্প নেই। তাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কৃষি সম্পর্কিত জ্ঞান, দক্ষতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি করে, পরিবার মিলে আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করার পাশাপাশি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিৎ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যের মাধ্যমে পারিবারিক চাহিদা পূরণ করা।
বর্তমান সময়ে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং দৈনন্দিন চাপপূর্ণ জীবনযাপনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এসব থেকে মুক্তি পাওয়ার এক ছোট উপায় হিসেবে পরিবারকে ‘সবুজ পরিবার’ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। একইসাথে, ইন্টারনেটের জটিলতার বাইরেও কিছু সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানোর সহায়ক লক্ষ্য হতে পারে।
শুরুতে কয়েক মাস পরিবারের মাসিক কাঁচাবাজার থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই কাজ শুরু করা যাবে। অল্পদিনের মধ্যেই যদি এই প্রকল্প থেকে আয় শুরু হয়, তবে পরবর্তীতে অর্থসংস্থান নিয়ে চিন্তা কমে যাবে। যেহেতু এটি নিজের বাড়িতেই করা যায়, ফলে বাড়ির বাইরে যেতে হয় না এবং ইচ্ছেমতো সময় দিতে পারবে। অবশ্য বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে মৌসুমী সবজি বাগান করা, দেশি ফলের গাছ (পেঁপে, পেয়ারা, কলা, লিচু, লেবু ইত্যাদি) লাগানো। যেগুলো অল্প জায়গায়ও লাগানো যায়, তাহলে সারাবছর রাসায়নিক মুক্ত পুষ্টিকর ফল খাওয়া সম্ভব। এছাড়া স্বল্প পরিসরে আদা, মরিচ ও অন্যান্য মসলাজাতীয় ফসলও পরিবারিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। ফুলের গাছ বাড়ির পরিবেশকে সুন্দর করে। জৈব সার তৈরি ও ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ আরো কমে যাবে। শহরাঞ্চলে ছাদবাগান করেও সবুজ পরিবার গড়ে তোলা সম্ভব। ইতিমধ্যেই অনেক বাড়িতে এটি প্রচলিত আছে এবং এটি আরও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা উচিত।
পরিবারের সবাই মিলে কাজ করলে কাজ সহজে ও দ্রুত হয় এবং পারিবারিক বন্ধনও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণ হবে, অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে কিছু আয় করা যাবে, এবং পুষ্টিকর নিরাপদ খাবার খাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই কাজে যুক্ত হয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন। এছাড়া বর্তমান বাজারে খাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতেও এটি সহায়ক হতে পারে। সবুজ গাছপালা থাকার কারণে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পায়। সবুজ পরিবার গড়ে তোলার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, যেমন: স্থানীয় কৃষি অফিসের উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, কৃষি বিষয়ক টিভি ও অনলাইন প্রোগ্রামের প্রচার, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে কৃষি শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ও যুবকদের কৃষি কাজে সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন কৃষি ক্লাব গঠন করা। পারিবারিক কৃষি শুধুমাত্র নিরাপদ খাদ্যই সৃষ্টি করে না, এটি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষারও প্রতীক। কৃষিনির্ভর এই বাংলাদেশে প্রত্যেক পরিবারই কৃষি সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে অন্তত দুই-এক ঘণ্টা সময় দিলে প্রতিটি পরিবারই নিরাপদ খাদ্যের একটি উৎস হতে পারে।
লেখক
আরও পড়ুনতানভীন ইসলাম
শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








