ভিডিও মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪৮ রাত

বগুড়ার সোনাতলায় আমন মৌসুমে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

বগুড়ার সোনাতলায় আমন মৌসুমে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলায় চলতি মৌসুমে আমন ধান কিনতে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য বিভাগ। এ উপজেলায় সরকার ১০৭ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলার দু’টি খাদ্য গুদামে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়ে শেষ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সোনাতলা উপজেলায় মোট ১০৭ মেট্রিকটন আমন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সোনাতলা খাদ্যগুদামে ৭৫ মেট্রিকটন এবং হরিখালী খাদ্যগুদামে ৩২ মেট্রিকটন। এ সময়ের মধ্যে ওই দু’টি খাদ্যগুদামে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।
 
কারণ হিসেবে খাদ্য বিভাগ জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে অনীহা দেখিয়েছেন। এজন্য চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
 
এরপর লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত কৃষককে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, ব্যাংকে একাউন্ট খোলা, ধানের আর্দ্রতা ঠিক রাখা, ধান পরিস্কার করার ঝামেলার কারণে গুদামে ধান বিক্রি করতে তাদের অনীহা। এছাড়াও গ্রাম-গঞ্জের অশিক্ষিত কৃষক অনলাইনে আবেদনসহ সরকারি বিভিন্ন রকম নিয়ম-নীতির ঝামেলা এড়াতে বাজারে ধান বিক্রি করেন। বাজারে ধান বিক্রির সাথে সাথে নগদ টাকা হাতে পাওয়া যায়। এছাড়াও তারা আরও জানান, এক সময় ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে ১০ টাকা দিয়ে একাউন্ট খোলা যেত। এখন সেই একাউন্ট খুলতেও এক হাজার টাকা লাগে।
 
এ বিষয়ে হলিখালী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, চলতি বছর তার খাদ্যগুদামে ৩২ মেট্রিকটন ধান কেনার বরাদ্দ পাওয়া গেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান কেনা সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি, তাই কৃষক খাদ্যগুদামে আমন ধান বিক্রি করেননি। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না।
 
এ বিষয়ে সোনাতলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) জালাল উদ্দিন সরদার বলেন, কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে নগদ টাকা হাতে পান। অপরদিকে খাদ্যগুদামে ধানের মূল্য পেতে বিলম্ব হওয়া এবং একাউন্ট খোলাসহ সরকারি নানা ধরনের নিয়ম-নীতির কারণে খাদ্যগুদামে ধান দিতে কৃষকরা অনীহা দেখিয়েছেন। ফলে চলতি মৌসুমে তার খাদ্যগুদামে ৭৫ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
 
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহ্ মো. শাহেদুর রহমান বলেন, চলতি বছর আমন মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহের সময়সীমা থাকলেও বরাদ্দকৃত ১০৭ মেট্রিকটন ধানের মধ্যে এক ছটাক ধানও কেনা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর সরকার প্রতি কেজি আমন ধান ৩৪ টাকা দরে নির্ধারণ করে। কৃষকের অনীহা, বৈরি আবহাওয়া, খোলা বাজারে দাম বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সোনাতলায় আমন মৌসুমে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

প্রাণী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে চাই : সাদিক কায়েম

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: সিইসি

নির্বাচনের হাওয়া বগুড়ার সারিয়াকান্দি-সোনাতলার এলাকার ভোটারদের হতাশা ও প্রত‍্যাশা

খাদক বিড়ালদের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ডাকসু

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভ্রাম্যমান আদালতে তিশা বেকারিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা