বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
যুগে যুগে যেসব মনীষী জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁদের নৈতিক চরিত্রের দৃঢ়তা এবং সততা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যাপারেও এর কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। কোন মানুষের ব্যক্তিত্বের উপর তাঁর নেতৃত্বও নির্ভর করে। যে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব খুব প্রখর, তার কাছে নেতৃত্বও ধরা পড়ে। অন্য কথায় বলা যায় যিনি যে সমস্ত গুণের অধিকারী হবেন তার নেতৃত্বের ভিতর সেসব গুণেরই প্রকাশ ঘটে। আরও সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয়, ব্যক্তিত্ব হচ্ছে ব্যক্তির চারিত্রিক দৃঢ়তা, সততা এবং আশা-আকাক্সক্ষা ও লক্ষ্যেরও প্রতিফলন। আর এগুলোর উপর নির্ভর করে সেই ব্যক্তি যদি কোন কাজের নেতৃত্ব দেন তাহলে তার নেতৃত্ব সেই কাজের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্ব ছিল দীপ্তিময় মধ্যাহ্নের সূর্যালোকের মত প্রখর। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলতে হয় তিনি ছিলেন অসম সাহসী যোদ্ধা, ধীর স্থির বুদ্ধিদীপ্ত এবং কঠোর, কর্মঠ এক অসাধারণ দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমে তাঁর জুড়ি কেউ ছিল না। আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতাসীন তখন সমস্যা জর্জরিত দেশের জন্য কড়াহাতে শাসনভার গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল এবং তা তিনি করতে সামর্থ্য হয় ফলে জনগণ তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানায়। মৃদু ভাষী এ সেনানায়ক কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। বক্তিগত জীবনে তিনি দুর্নীতি থেকে পুরোপুরি মুুক্ত ছিলেন। বলা উচিত দুর্নীতির জালে তাঁকে আবদ্ধ করা অসম্ভব ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যেসব কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রায়াজনীয়তা দেখা দেয়, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দৃঢ়ভাবে সেসব সিদ্ধান্ত নিতেন। জনসংখার উর্ধ্বগতি এবং দরিদ্রতার মতো গুরুতর সমস্যা মোকাবিলায় তিনি যে অগ্রগতি সাধন করেন সে কথা তাঁর বিরাধী দলীয়রাও স্বীকার করে। তিনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকেই সর্বাগ্রে অধিকার দেয়ার মতো সমস্যা হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছিলেন বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে হবে এবং সেই সঙ্গে অন্যান্য দেশের সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতার অবসান ঘটাতে হবে। জেনারেল জিয়াউর রহমানের কর্মধারায় একটা স্বতন্ত্র ধারা ছিল। পূর্বসূরিরা যা করেননি, তিনি সেদিকে নজর দিয়ে ছিলেন। রাজনীতি মুক্ত করেছিলেন। সামরিক ও বেসামরিক দফতরগুলো তিনি রাজনীতিমুক্ত করেছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুষম নিয়মনীতির আওতায় শুরু করেছিলেন। এতে করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা বেড়ে যায়। তিনি “শান্তিপূর্ণ বিপ্লব” নামে একটি প্রচারণা অভিযান শুরু করেন। ব্যক্তিগতভাবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে তিনি ১৯ দফার কর্মসূচি তুলে ধরেন। তার মধ্যে রয়েছে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার শপথ গ্রহণ, জনসাধারণকে শিক্ষিত করার উদ্যোগ, পরিবার পরিকল্পনা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক মহান ব্রত নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশবাসিকে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর যথেষ্ট ভূমিকা দিল। ক্ষমতাসীন থাকাকালে ব্যক্তিগতভাবেও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার মতে, “ প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন সমুদ্রতটে আছড়ে পড়া উত্তাল তরঙ্গের মতো প্রাণ চঞ্চল... তলাবিহীন ঝুঁড়িতে আরও কিছু শস্য ঢেলে দিয়ে ঝুড়ির তলা মেরামত করতে চেয়েছিলেন তিনি। দেশব্যাপী জাগিয়ে তুলেছিলেন কার্মোদ্যম এবং কর্মযোগের এক নবজাগরণ।”এই হচ্ছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তিনি সৎ একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক এবং অনন্য সাধারণ এক বলিষ্ঠ কর্মী পুরুষ। তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার বিশাল জনসমুদ্রকে দেশ গঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে একাকার হয়ে গিয়ে ছিলেন। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে এক বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করেছেন সদ্য প্রয়াত আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক এবং আপসহীন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথ চলায় তিনি বহুবার ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন, জেল খেটেছেন, কিন্তু জনতার রায়ে নির্বাচনে তিনি ছিলেন অপরাজেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অবিস্মরণীয় নাম। নির্বাচনি সাফল্য থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার নেয়া যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো আজ ইতিহাসের অংশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এমন কিছু রাজনৈতিক রেকর্ড ও রাষ্ট্রীয় অবদান রয়েছে, যা তাকে সমসাময়িক অন্য সব রাজনীতিবিদ থেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান আকর্ষণ বিএনপি চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশনায়ক তারেক রহমানের স্কন্ধে দায়িত্বভার অর্পণ করতে যাচ্ছে দেশপ্রেমিক জনগণ। সেই দায়িত্বভার নিতে দেশনায়ক তারেক রহমানও রয়েছেন প্রস্তুত। আর সেজন্য তিনি বলেছেন “সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন মত পার্থক্য আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে, সমাজের সব মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে আমাদের বিভিন্ন মতপার্থক্যগুলো নিয়ে যেন আলোচনা করতে পারি। আমরা যে কোন পর্যায়ে জবাবদিহিতা বা গণতান্ত্রিক প্রসেসটা যটি কন্টিনিউ করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবো।” আর এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো অতীব জরুরি। কেননা- আমরা নানান মানুষ, নানান মত। দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সকলে মিলে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারিনা। আমরা আর দেখতে চাই না ৫২, ৭১, ৭৫, ৯০ এবং ২০২৪। আমরা দেখতে চাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না কোন আগ্রাসী শক্তির কালো থাবা, থাকবে না কোন সাম্প্রদায়িক হানাহানি, থাকবে না সমাজে কোন বৈষম্য, সচল রাখতে চাই আমাদের মৌলিক অধিকার চিরতরে বন্ধ করতে চাই- ঘুষ, দুর্নীতি আর দালালী, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করাতে চাই মদন মোহন তর্কালঙ্করের শিক্ষণীয় সেই শিশু শিক্ষা বই। কেননা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বাচ্চাদের আদব-কায়দা শেখানোর অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে সমাজ পরিবর্তনে অনেক প্রতিবন্ধকতা। এজন্য বাংলার নেলসন ম্যান্ডেলা তারেক রহমান বলেছেন আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
সোনা পুঁড়ে যেমন খাঁটি হয়, তেমনি দীর্ঘ প্রবাস জীবনে দেশনায়ক তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে ইনশাআল্লাহ। এ জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই, হানাহানি বাদ দিই, সবাই মিলে একটি সুন্দর দেশ গড়ি, মত-পার্থক্য থাকবে- তাই বলে কোন নোংরামি নয়। সমাজকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে আমাদের পরিবর্তন হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজ নেই। তাঁর নীতি, আদর্শ, কৌশল আজও আমাদের পাথেয়। তাইতো তিনি আজও বেঁেচ আছেন এদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়। আমাদের ইতিহাসের অগ্রযাত্রায় তিনি আছেন, চিরকাল থাকবেন। তাঁর প্রেরণায় চিরকাল উজ্জীবিত হবো আমরা। সুতরাং তাঁর মৃত্যু নেই, ক্ষয় নেই, তিনি চিরঞ্জীব।
লেখক
আরও পড়ুনমাহ্ফুজুর রহমান রাজু
সাংবাদিক এবং প্রাবন্ধিক
সাবেক দফতর সম্পাদক বগুড়া জেলা বিএনপি।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








