শরিয়তের দৃষ্টিতে দুনিয়াপ্রীতির মাপকাঠি
আল্লাহ তাআলা সুরা তাওবার ২৪ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যদি আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও আল্লাহর পথে চেষ্টা-সংগ্রামের চেয়ে দুনিয়ার সম্পর্ক, সম্পদ ও স্বাচ্ছন্দ্য বেশি প্রিয় হয়ে যায়, তবে তা ঈমানের জন্য বিপজ্জনক। এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সতর্ক করেছেন, দুনিয়ার ভালোবাসা যেন আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসাকে ছাপিয়ে না যায়।
দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা স্বভাবগত হলে তা নিন্দনীয় নয়। নিন্দনীয় তখনই, যখন সেই ভালোবাসা আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ পালনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মাপকাঠি একটাই—দুনিয়াকে ভালোবেসেও যদি আল্লাহর আদেশ পালনে ও দ্বিনের পথে পরিশ্রমে ঘাটতি না হয়, তবে আল্লাহ ও রাসুলই আমাদের কাছে প্রকৃত অর্থে বেশি প্রিয়।
দ্বিন ও দুনিয়ার স্বার্থের সংঘর্ষে যদি দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে জবাবদিহি করতে হবে। আর যদি দুনিয়ার লোভ থাকা সত্ত্বেও তা বিসর্জন দিয়ে দ্বিনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে সেটাই পূর্ণ পরহেজগারি এবং অধিক সওয়াবের কারণ। কারণ প্রকৃত তাকওয়া হলো লোভ থাকা সত্ত্বেও তার বিরোধিতা করা।
আরও পড়ুনএই বাস্তবতা বোঝাতে উমর (রা.) পারস্যের বিপুল ধনভাণ্ডার দেখে দোয়া করেছিলেন—ধনের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ যেন থাকে, কিন্তু তা যেন আমাদের আল্লাহ থেকে দূরে না সরায়। কোরআনও বলেছে, দুনিয়ার সৌন্দর্য মানুষকে আকৃষ্ট করে, তবে উত্তম আশ্রয়স্থল আল্লাহর কাছেই।
অতএব, দুনিয়ার লালসা থাকা নিজে দোষ নয়; বরং সেই লালসা অনুযায়ী আমল করাই দোষ। ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই ইসলামের শিক্ষা—যেখানে দুনিয়া থাকবে হাতে, কিন্তু আল্লাহ থাকবেন হৃদয়ে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








_medium_1768665047.jpg)