ভিডিও শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২৯ সকাল

গতি কমে যাচ্ছে স্মার্টফোনের? 

আইটি ডেস্ক : বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসিয়াল কাজ কিংবা বিনোদন সবই এখন হাতের মুঠোয়। তবে ব্যবহারের কিছুদিন পরেই সাধের ফোনটি ধীরগতির হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ হ্যাং করার সমস্যায় পড়েননি, এমন ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অনেক সময় স্ক্রিন ফ্রিজ হয়ে যাওয়া বা অ্যাপ ওপেন হতে দেরি হওয়া চরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ কিছু ডিজিটাল চর্চা ও নিয়ম মেনে চললে স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স দীর্ঘমেয়াদে নতুনের মতোই রাখা সম্ভব।

 

স্মার্টফোন ধীরগতির হয়ে পড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্টোরেজ বা মেমোরি পূর্ণ হয়ে যাওয়া। ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ পূর্ণ থাকলে প্রসেসর সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তাই প্রথমেই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশনগুলো চিহ্নিত করে মুছে ফেলা বা আনইনস্টল করা জরুরি। ফোনে অতিরিক্ত অ্যাপ থাকলে তা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং র‍্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা ফোনের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। একইভাবে, গ্যালারিতে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, পুরনো সিনেমা বা গেমের ফাইলগুলো নিয়মিত ডিলিট করতে হবে। স্টোরেজ ফাঁকা থাকলে ফোনের কার্যক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

 

দ্বিতীয়ত, সফটওয়্যার এবং অ্যাপ আপডেটের বিষয়টি অনেকেই অবহেলা করেন। স্মার্টফোন নির্মাতারা নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট পাঠান, যা ফোনের নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করে এবং গতি বাড়াতে সাহায্য করে। একইভাবে, নিয়মিত ব্যবহার করা অ্যাপগুলো গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে আপডেট রাখা উচিত। আপডেটেড অ্যাপে 'বাগ' (সফটওয়্যার ত্রুটি) কম থাকে, ফলে ফোন স্লো হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

 

তৃতীয়ত, মেমোরি ম্যানেজমেন্ট বা ক্যাশ ফাইল পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহারের ফলে মেমোরিতে প্রচুর অস্থায়ী ডেটা বা জাঙ্ক ফাইল জমা হয়। নিয়মিত সেটিংস থেকে এই ক্যাশ ও ডেটা মুছে ফেললে ফোন হ্যাং করার প্রবণতা কমে। এছাড়া মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। অনেকেই একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ওপেন করে রাখেন বা মিনিমাইজ করে রাখেন। একটি অ্যাপের কাজ শেষ হলে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এতে র‍্যামের ওপর চাপ কমে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হয়।

আরও পড়ুন

 

চতুর্থত, ফোনের সক্ষমতা বুঝে ব্যবহার করা একটি ভালো অভ্যাস। সাধারণ মানের একটি ফোনে যদি উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম খেলা হয় বা ভারী ভিডিও এডিটিং অ্যাপ চালানো হয়, তবে ফোনটি দ্রুত গরম হবে এবং ধীরগতির হয়ে পড়বে। যারা গেমিং বা ভারী কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের উচিত উচ্চ সক্ষমতার বা ডেডিকেটেড গেমিং ফোন ব্যবহার করা। এছাড়া হঠাৎ ফোন ফ্রিজ হয়ে গেলে বা স্ক্রিন কালো হয়ে গেলে রিস্টার্ট দেওয়া একটি কার্যকরী সমাধান। রিস্টার্ট দিলে ফোনের সিস্টেম রিফ্রেশ হয় এবং ছোটখাটো সফটওয়্যার গ্লিচগুলো দূর হয়ে যায়।

 

স্মার্টফোন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যার নিয়মিত যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। কেবল দামি ফোন কিনলেই হবে না, বরং এর সঠিক ব্যবহারই ডিভাইসের দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিশ্চিত করে। ওপরের টিপসগুলো মেনে চললে হার্ডওয়্যারজনিত বড় কোনো ত্রুটি না থাকা সাপেক্ষে ফোনের গতি এবং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। মনে রাখবেন, ফোনের ডিজিটাল পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ঠিক ততটাই জরুরি, যতটা জরুরি এর বাহ্যিক সুরক্ষা। নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলা এবং সফটওয়্যার আপডেট রাখার অভ্যাস গড়ে

তুললে আপনার স্মার্টফোনটি দীর্ঘ দিন নতুনের মতো সেবা দেবে।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে ‘এআই ড্যান্সিং বেবি

গতি কমে যাচ্ছে স্মার্টফোনের? 

ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড, কোনটি সাশ্রয়ী?

ইরানে সরকারের পতন দ্বারপ্রান্তে : পানাহি

গ্রিনল্যান্ড দখলে সমর্থন না দিলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

সোনারগাঁয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ৮ ডাকাত পুলিশের হাতে আটক