লালমনিরহাটে রেলওয়ের তিস্তা সেতুর মেয়াদ শেষের পরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ স্থাপত্যের সাক্ষী ঐতিহাসিক তিস্তা রেলসেতু। যে সেতুটি লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম ও রংপুর বিভাগীয় শহরের একমাত্র সংযোগস্থল। রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ১৮৩৪ সালে নির্মিত ২ হাজার ১১০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটির নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ১শ’ বছর। প্রায় ৯২ বছর আগেই সেতুটির কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। অথচ নির্মাণের ১৯২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এই জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেতুর বহু কাঠের স্লিপার পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে, কোথাও নেই প্রয়োজনীয় নাট-বল্টু। স্থানীয়দের অভিযোগ মাঝেমধ্যে রেললাইনে ফাটল দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে ঝালাই দিয়ে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল সচল রাখা হয়।
এই নড়বড়ে অবস্থার মধ্যেই প্রতিদিন প্রায় ১৮টি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মাঝে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাইমুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এই সেতুটি চালু রয়েছে।
আরও পড়ুনপরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের কাঠামোগত সংস্কার করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেতুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কার কাজ যা চলে, সেটা অত্যন্ত ধীরগতিতে। লালমনিরহাটের রেল যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র এই ঐতিহাসিক সেতুটি রক্ষায় সরকারের কাছে সঠিক পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত মেরামতের দাবি জানাই।
সেতুটির ঝুঁকি ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী বলেন, ভারী ট্রেন চলাচলের সময় সেতুতে কিছুটা ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। তবে আমরা নিয়মিত সেতুটির সংস্কার কাজ করছি এবং প্রতি বছর একবার পরিদর্শন করা হয়।
বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, বর্তমানে এটি ট্রেন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ঝুঁকিপূর্ণ হলে আমরা কখনোই ট্রেন চলাচলের অনুমতি দিতাম না। তবে যেহেতু সেতুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে ট্রেনের গতি কমানো আছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ এখানে নতুন করে একটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বলেও জানান ওই প্রকৌশলী।
মন্তব্য করুন







