দেড় যুগ পর বগুড়া সান্তাহার সাইলো সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ অপেক্ষার পর অবশেষে আদমদীঘি উপজেলার খাদ্য বিভাগের অতিগুরুত্বপূর্ণ বেহাল দশায় পরিণত সান্তাহার সাইলো সড়কের দরপত্র আহবান করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত বছরের ২০ নভেম্বর এই সড়কের দরপত্র আহবান করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক এটিএম কাওসার হোসেন সইকৃত দরপত্রে ওই সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৭ টাকা। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটি প্রায় দেড় যুগ ধরে খানাখন্দকে পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছিল।
সড়কজুড়ে একাধিক খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় সেগুলোতে পণ্যবোঝাই ট্রাক ও যানবাহন চলাচল হুমকির মুখে পড়ে অনেক যানবাহন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সান্তাহারে নতুন আরেকটি সাইলো (চাল) সংরক্ষণাগার উদ্বোধনের জন্য এলে সেসময় সড়কটি আংশিক সংস্কার করা হয়। এরপর প্রায় ৯ বছর অতিবাহিত হলেও খাদ্য বিভাগ সড়কটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
বর্তমানে ঝুকিঁপূর্ণ ও ভাঙ্গাচূড়া এই সড়কে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে খাদ্যপণ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদমদীঘির সান্তাহার খাড়ির ব্রিজ হতে সাইলো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক রয়েছে।
দেশের বৃহৎ সাইলো গুদামে ৫০ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটি সাইলো (একটি গম ও একটি চাল) ও ২৫ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সারগুদামে মালামাল পরিবহনের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল করে।
আরও পড়ুনএছাড়া এই সড়ক দিয়ে সান্তাহার পৌরসভা, সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদ ও আদমদীঘি উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগে প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করে থাকেন। বর্তমানে এই সড়কের সাইলো থেকে শুরু করে সান্তাহার খাঁড়ির ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বেশিরভাগ স্থানে পাথর, ইট ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে বেহাল দশায় পরিণত হয়।
সান্তাহারের ট্রাক মালিক মঞ্জু ইসলাম বলেন, সাইলো ও সারগুদামে মালামাল পরিবহনের জন্য ওই সড়ক দিয়ে অসংখ্য ট্রাক চলাচল করে। এখন এই রাস্তা দিয়ে সার নিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে হয়। কোন সময় সারবোঝাই ট্রাক গর্তে পড়ে গেলে সার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে থাকে।
ট্রাক চালক শামিম হোসেন বলেন, দেশজুড়ে আমরা ট্রাক চালায় কিন্তু সান্তাহার সাইলো সড়কের মত এত খারাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক কোথাও নেই। তিন কিলোমিটার এই সড়ক পাড়ি দিতে এক ঘন্টা সময় লাগে। অনেক সময় ট্রাক অচল হয়ে পড়ে।
সান্তাহার সাইলো’র সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
মন্তব্য করুন







