বগুড়ার সোনাতলায় নাব্যতা হারিয়েছে যমুনা নদী, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না করায়
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে সোনাতলায় যমুনা নদীর অংশে খনন কিংবা ড্রেজিং না করায় নাব্যতা সংকটে পড়েছে। এতে করে জমিতে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। এছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে চরাঞ্চলবাসীকে যাতায়াতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অপরদিকে কৃষিপণ্য পরিবহনে হিমশিম খেতে হচ্ছে চরাঞ্চলবাসীদের।
যমুনা নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে কৃষক কৃষি কাজে নদী থেকে পানি উত্তোলন করতে পারেন না। নাব্যতা সংকটের কারণে উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের আমতলি, মির্জাপুর ও পূর্ব সুজাইতপুর খেয়াঘাটসহ বেশ কয়েকটি নৌঘাট বন্ধ রয়েছে। নৌকার পরিবর্তে এসব নৌরুটে কৃষকরা ঘোড়ার গাড়িতে করে বেশি ভাড়া দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করছেন।
কেউবা হেঁটে কাঁধে করে কৃষিপণ্য ও পশুখাদ্য পরিবহন করছেন। এছাড়া নাব্যতা সংকটে যমুনা নদীজুড়ে অসংখ্য ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ডুবোচরে নৌকা আটকে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এদিকে যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে উপজেলার একমাত্র ব্যস্ততম তেকানী চুকাইনগর-জামালপুর নৌরুটও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যমুনা নদীতে পানি না থাকায় প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই নৌঘাট বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুনবর্তমানে এ নৌরুট দিয়ে যাত্রীরা হেঁটে চলাচল করছেন এবং ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকটি চরের বাসিন্দারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে নৌকাযোগে তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারলেও শুষ্ক মৌসুমে চরের দীর্ঘ বালুময় পথ অতিক্রম করতে হয়।
এতে করে ছেলে-মেয়েরা শুষ্ক মৌসুমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে চায় না। এছাড়া তারা আরও জানান, চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিপণন ও বাজারজাত করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, দীর্ঘদিন নদীটি ড্রেজিং করা হয়নি। নদীটি ড্রেজিং করা হলে, চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি কৃষকের সকল ধরনের ভোগান্তি দূর হবে।
মন্তব্য করুন




_medium_1768139007.jpg)


