ভিডিও বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল

ভোটের সময় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

ছবি: সংগৃহীত, ভোটের সময় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের ৪৮তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার ঠেকানোই ছিল মূল আলোচ্য বিষয়। রোহিঙ্গাদের যেন কোনোভাবেই অসৎ উদ্দেশ্যে নির্বাচনে ব্যবহার করা না যায়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে ভোটের আগে মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সময়কে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পুরোপুরি বন্ধ না করে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতকারী রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ এবং পুরো এলাকাকে কার্যত নিরাপত্তার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের কাজে দায়িত্বে থাকা ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারদের পরিবর্তন না করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রতিদিনই নতুন নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে যাতে অনুপ্রবেশ না বাড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গাদের করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কোনো ছাড় দেবে না। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভোটের সময় সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প কার্যত সিল থাকবে। ক্যাম্প ইনচার্জদের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং দায়িত্বে থাকা সিআইসিদের সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে এবং রোহিঙ্গাদের যেন কেউ কোনোভাবেই নির্বাচনে ব্যবহার করতে না পারে, সেটিই নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত কবে নাগাদ সিল করা হবে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়েই মিয়ানমার সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সিল করার ওপর জোর দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মত প্রকাশ করেন।

সানাউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র এনে ক্যাম্পে ঢুকিয়ে দিলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো গোষ্ঠী যদি নাশকতার উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবহার করে, তাহলে তা দমন করা আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং ক্যাম্প ও সীমান্ত সিল করা জরুরি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশে নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৮ জন। গত অক্টোবর পর্যন্ত ১১ মাসে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪০।

ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন ক্যাম্পে মোট ১১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ জন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩৭ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফেব্রুয়ারিতেই বাজারে আসতে পারে অ্যাপলের নতুন আইফোন

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৫

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল: প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরব দিয়ে বিদেশ সফর শুরু করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি